
বিরল মহাজাতিক শোভাযাত্রা একসঙ্গে ছয় গ্রহ দেখা যাবে আকাশে
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
ক্লাব প্রেসিডেন্ট ইয়ামালের জন্য পিএসজির ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবে রাজি হয়নি বার্সা
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬সেভিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট দেল নিদো কারাস্কোর যুক্তি হলো, একজন সম্ভাব্য মালিক একই সঙ্গে ক্লাবের খেলোয়াড় বা কর্মচারী হতে পারেন না। সভাপতির মতে, মালিককে যদি ক্লাবের অন্য কর্মচারীদের অধীনে অনুশীলন বা কাজ করতে হয়, তবে সেটি হবে পেশাদারত্বের চরম পরিপন্থী।
বয়স ৩৯ পেরিয়ে ৪০-এর কোটায়, কিন্তু সার্জিও রামোস নিজেকে এখনো মনে করেন এক তেজস্বী ‘ষাঁড়’। আগামী ৩০ মার্চ চল্লিশ পূর্ণ করতে যাওয়া এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এখনো শারীরিকভাবে এতটাই ফিট যে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সামর্থ্য তার আছে। আর এই ফিটনেস কোনো জাদুমন্ত্রে আসেনি, এসেছে কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মিত অনুশীলনের ফল হিসেবে। তবে ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে রামোস এখন এক কঠিন দোটানায়—সামনে যেমন আছে একগুচ্ছ লোভনীয় প্রস্তাব, তেমনি উঁকি দিচ্ছে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ অবসরের সম্ভাবনাও। খবর এএস।
রামোস মনেপ্রাণে চান প্রিয় ক্লাব সেভিয়া থেকেই বিদায় নিতে। কিন্তু ক্লাব কর্মকর্তাদের অনড় অবস্থানের কারণে তার সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে গেছে। বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে থাকা রামোসের টেবিলে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবসহ কাতার ও সৌদি আরবের নামী সব ক্লাবের প্রস্তাবও জমা হয়ে আছে। স্পেনের ভেতরে রিয়াল মাদ্রিদ বা সেভিয়া ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে খেলার কথা তিনি ভাবতেও পারেন না। অন্যদিকে, বিদেশের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পরিবার। এই বয়সে পরিবারকে ছেড়ে দূরে থাকার কথা ভাবছেন না রামোস। আর এটাই এখন তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
সেভিয়াতে ফিরতে না পারার পেছনে কাজ করছে এক অদ্ভুত আইনি ও ব্যবসায়িক জটিলতা। রামোস একটি বিনিয়োগ তহবিলের (ফাইভ ইলেভেন ক্যাপিটাল) সঙ্গে যুক্ত, যারা সেভিয়া ক্লাবটি কিনে নেয়ার দৌড়ে আছে। রামোসের পরিকল্পনা ছিল, প্রথমে সেভিয়ার হয়ে খেলা, এরপর সেখান থেকেই অবসর নেয়া এবং পরবর্তীতে ক্লাবের মালিকানায় যুক্ত হওয়া। কিন্তু সেভিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট দেল নিদো কারাস্কো এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, একজন সম্ভাব্য মালিক একই সঙ্গে ক্লাবের খেলোয়াড় বা কর্মচারী হতে পারেন না। সভাপতির মতে, মালিককে যদি ক্লাবের অন্য কর্মচারীদের অধীনে অনুশীলন বা কাজ করতে হয়, তবে সেটি হবে পেশাদারত্বের চরম পরিপন্থী।
কারাস্কো সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রামোস বিনা পারিশ্রমিকে খেলতে চাইলেও ক্লাব তাকে নিতে পারত না। এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ছিল এবং এর পেছনে ক্লাবের অন্য কারো হাত নেই। ক্লাব প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের পর রামোসের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় বিদেশের কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা অথবা বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখা। স্প্যানিশ জাতীয় দল, রিয়াল মাদ্রিদ ও সেভিয়ার এই জীবন্ত কিংবদন্তির পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে, তা জানতে এখন ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষাই করতে হবে।


