সংকটকালে বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব পুঁজিবাজারের জন্য বেশি কার্যকর
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
সংকটকালে বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব পুঁজিবাজারের জন্য বেশি কার্যকর
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন হয়ে রাশিয়ায় যাচ্ছে বিদেশী গাড়ি

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। অনেক আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সরাসরি রাশিয়ায় রফতানি বন্ধ করেছে। তার পরও দেশটিতে থেমে নেই বিদেশী ব্র্যান্ডের গাড়ির চাহিদা। চীনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বা ‘গ্রে মার্কেট’ বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে এখনো হাজার হাজার বিদেশী গাড়ি রাশিয়ায় পৌঁছাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টয়োটা ও মাজদার মতো জাপানি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে মার্সিডিজ-বেঞ্জ বা বিএমডব্লিউর মতো জার্মান বিলাসবহুল গাড়িও এখন অনানুষ্ঠানিক পথে রাশিয়ায় ঢুকছে। রাশিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অটোস্ট্যাট’-এর তথ্যানুযায়ী, চীনা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে এ বাণিজ্য সচল রয়েছে। রুশ ডিলাররা সরাসরি নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ না করে চীনের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে গাড়ি সংগ্রহ করছেন।

এ বাণিজ্যের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে চীনে তৈরি বিদেশী ব্র্যান্ডের গাড়ি। অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি চীনে তাদের স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলে গাড়ি তৈরি করে। এছাড়া অন্য দেশে তৈরি গাড়িও চীনের বন্দর হয়ে রাশিয়ায় যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কঠোরতা এড়াতে ব্যবসায়ীরা এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন। তারা একদম নতুন গাড়িকে কাগজে-কলমে ‘ব্যবহৃত গাড়ি’ হিসেবে নিবন্ধন করছেন। চীনে নিবন্ধনের পর পরই সেগুলোকে ব্যবহৃত গাড়ি হিসেবে দেখিয়ে রাশিয়ায় রফতানি করা হচ্ছে। ফলে মূল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতির প্রয়োজন পড়ছে না।

অটোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বিদেশী ব্র্যান্ডের গাড়ির প্রায় অর্ধেকই এসেছে চীন হয়ে।

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি এ ধরনের গাড়ি রাশিয়ায় বিক্রি হয়েছে। রাশিয়ার ডিলাররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক কেবল পশ্চিমা ব্র্যান্ডের গাড়িই চালাতে চান। বর্তমানে সরাসরি আমদানির সুযোগ না থাকায় তারা প্যারালাল ইমপোর্ট বা বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ ও ফক্সওয়াগনের মতো কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার কাছে গাড়ি বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। অননুমোদিত রফতানি বন্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এ পাচার থামানো তাদের জন্য বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বিএমডব্লিউ জানিয়েছে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে এসব গাড়ি রাশিয়ায় প্রবেশ করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নজরদারি বাড়ালেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প পথের সংখ্যা এত বেশি যে এ প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে গাড়ির উদ্বৃত্ত থাকায় এবং সরকারি ভর্তুকি সুবিধার কারণে ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ নিচ্ছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার রাস্তায় এখনো নতুন মডেলের দামি বিদেশী গাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *