কী কী কাজ করেছেন, ফেসবুক পোস্টে জানালেন আসিফ নজরুল
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
কী কী কাজ করেছেন, ফেসবুক পোস্টে জানালেন আসিফ নজরুল
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন, আলোচনায় ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে। বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে তার মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে। বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে তার মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করেন, ক্লিন ইমেজের নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হলে কাজের গতিশীলতা আসবে। এক্ষেত্রে বিসিএস ১৫ ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়। এর ধারাবাহিকতায় সে বছরের ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি মো. ময়নুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন। সরকারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আওতায় বাহারুল আলম এ পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি বিসিএস (পুলিশ) ১৯৮৪ ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধানসহ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত আইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষা বিভাগে সিনিয়র পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে ফিল্ড মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। নতুন সরকার মঙ্গলবার শপথ নেয়ার পরই আইজিপিকে পদত্যাগপত্র নতুন সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। নতুন সরকার শপথ নেয়ার পরে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। সেই মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবে আইজিপি হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে নাকি চুক্তিভিত্তিক প্রক্রিয়ায় বাহারুল আলমকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে নতুন মন্ত্রিসভার ওপর। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রধানসহ পুলিশের অন্য ইউনিটগুলোর প্রধানদের পদেও রদবদল আসতে পারে। দেশের পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিকল্পনা বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, আসন্ন ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং নিয়মিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গতকাল সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে আইজিপি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে বৈঠকে একাধিক কর্মকর্তা বাহারুল আলমকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন।

আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইজিপি পদ থেকে বাহারুল আলমের পদত্যাগের কোনো বার্তা আমাদের কাছে নেই। উনি পদত্যাগ করলে বা ওনার পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে তখন আনুষ্ঠানিকভাবেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।’

এদিকে পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বাহিনীর প্রধান হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে কাজের গতিশীলতা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন আইজিপি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন পুলিশের বিসিএস ১৫ ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এর মধ্যে সবার আগে রয়েছে সদ্য অতিরিক্ত আইজিপি পদ থেকে অবসরে যাওয়া আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া এ তালিকায় আরো রয়েছেন ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা এপিবিএনের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির। পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের নামও। এসপি পদে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে চাকরি হারান তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যোগ দেন চাকরিতে।

রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেই নতুন পুলিশপ্রধান নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুলিশের কর্মস্পৃহা এবং নৈতিক ভিত্তির দুর্বলতা দৃশ্যমান। রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হওয়ার অভিযোগও পুলিশের বিরুদ্ধে পুরনো। এখন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যে সমীকরণ তৈরি হবে তার ওপর ভিত্তি করেই নতুন পুলিশপ্রধান নির্বাচন করতে হবে। পুলিশের ওপর মানুষের যে প্রত্যাশা সেটা পূরণ করা ও বাহিনীতে জবাবদিহি তৈরি করতে পারবেন—এমন একজনকেই এ পদে নিয়ে আসতে হবে। যিনি বাহিনীর প্রধান হবেন তার অতীত অভিজ্ঞতা, পেশাদারত্ব এবং একই সঙ্গে তিনি কী ধরনের পদক্ষেপ বা কর্মসূচি গ্রহণ করেন তার ওপর নির্ভর করবে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মূল্যায়ন। অতএব এমন একজনকে পুলিশপ্রধান করা উচিত যার ক্লিন ইমেজ রয়েছে এবং পেশাদারত্বের মধ্য দিয়ে পুরো বাহিনী এগিয়ে যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *