বিরোধী দুই নেতার বাসায় তারেক রহমান
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন, আলোচনায় ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিরোধী দুই নেতার বাসায় তারেক রহমান
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন, আলোচনায় ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

কী কী কাজ করেছেন, ফেসবুক পোস্টে জানালেন আসিফ নজরুল

আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম। খুব সকালে অফিসে এসে প্রয়োজনে রাত ৮ টা ৯ টা পর্যন্ত থেকেছি, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে গভীর রাতে বাসায় আবার কাজ করেছি। বহু শুক্রবার, শনিবার সচিবালয়ে অফিস করেছি।‘

আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে কী কী কাজ করেছেন তা সবিস্তারে তুলে ধরেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে তুলে ধরা হয় তার ও তার মন্ত্রণালয়ের কাজের বিস্তারিত।

আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম। খুব সকালে অফিসে এসে প্রয়োজনে রাত ৮ টা ৯ টা পর্যন্ত থেকেছি, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে গভীর রাতে বাসায় আবার কাজ করেছি। বহু শুক্রবার, শনিবার সচিবালয়ে অফিস করেছি।‘

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এগুলো হলো: ১) ২২ টি আইনি সংস্কার ২) ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন; ৩) ২৪, ২৭৬টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার; ৪) গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনা ৫ ) প্রায় তিনগুণ পরিমাণে দৈনন্দিন কার্যক্রম।

ড. আসিফ নজরুল পোস্টে জানান, আইনি সংস্কার কার্যক্রম হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ দিয়ে এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এতে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, অন্তবর্তীকালীন আপীল, এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বতন্ত্র জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে মেধা, সুযোগের সমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিচার বিভাগের নিজস্ব কর্তৃত্বে ন্যস্তকরণের বিধান করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশনের তদন্ত, ক্ষতিপূরণ আদায় ও নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ওপিসিএটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ক্ষমতা প্রদান, ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্পত্তি ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদান এবং একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণীত হয়েছে।

দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংশোধন করে দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে।

ফৌজদারি আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রেফতার ও রিমান্ড প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে।

আইন সংশোধন করে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের মামলার ক্ষেত্রে মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সম্পন্নে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ডাক ব্যালট প্রবর্তন, নির্বাচনী অপরাধ বিচারে বিচারকদের সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও বিচার কমিটি গঠন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারিক ক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করে পূর্বের সাইবার নিরাপত্তা আইনের নিপীড়নমূলক ধারাগুলো এবং এসবের অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়েছে। এছাড়া, বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন করে জেন্ডার বৈষম্যমূলক বিধান বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীসহ বিভিন্ন আইনে অধ্যাদেশ প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে সহযোগিতা প্রদান করেছে।

ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে জানান, জুডিসিয়াল সার্ভিসের স্বাধীনতা, তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও, বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করার লক্ষ্যে ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্র্যাকটিস ডিরেশনস জারি করা হয়েছে।

আদালত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুইটি পারিবারিক আদালতে ই-ফ্যামিলি কোর্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সে সঙ্গে, ৯টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগে ডি-নথির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়াও, জরুরি আইনগত সহায়তা, প্রবাসী নাগরিকদের সহায়তা প্রদান এবং পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টির লক্ষে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের জন্য সহজে মনে রাখার মতো নতুন ফোন নম্বর (১৬৬৯৯) এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, দেওয়ানি আদালতের পরিচিতি স্পষ্ট করা হয়েছে।

এই সময়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হয়েছে, যার ফলে এক বিচারককে একাধিক প্রকৃতির মামলার বিচার করতে হবেনা।

নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন বিভাগের সংস্কার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, এবং জনবান্ধব সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি এবং আইন ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনার পর এধরনের ২৩,৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংগঠিত গণহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, তাদের সকল লজিস্টিক সহায়তা প্রদান, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও প্রসিকিউশন কাজের তদরকীর দায়িত্ব পালন করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগকৃত সকল আইন কর্মকর্তা পালিয়ে যাওয়ার কারণে গত দেড় বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যাক আইন কর্মকর্তাকে (প্রায় সাড়ে পাচ হাজার) নিয়োগ করতে হয়েছে।‘

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কী কাজ হয়েছে তার হিসাবও দেয়া হবে বলে জানান ঐ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *