টি-২০ বিশ্বকাপ
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
কী কী কাজ করেছেন, ফেসবুক পোস্টে জানালেন আসিফ নজরুল
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
টি-২০ বিশ্বকাপ
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
কী কী কাজ করেছেন, ফেসবুক পোস্টে জানালেন আসিফ নজরুল
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

বিরোধী দুই নেতার বাসায় তারেক রহমান

নতুন সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার দুইদিন পর গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে প্রথমে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় যান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখান থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের বাসার যান। পৃথক আলোচনায় তারা দুজনই নতুন সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভোটের মাঠের দুই প্রতিপক্ষের এ সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াত। তারেক রহমান প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি নাহিদ ইসলামের বাসার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা যিনি হবেন সেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমি মনে করি, এ ধরনের নতুন সংস্কৃতি নিজেদের মধ্যে থাকা একটি গুণগত পরিবর্তনের সূচনা। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভালো শুরু এটি। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।’

বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিন একসঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে উল্লেখ তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রেখে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করবে দুই দল। তারেক রহমান ও জামায়াত আমিরের এ সাক্ষাৎকার আগামীর রাজনীতিতে ইতিবাচক অবস্থা তৈরি করবে। আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ থাকবে, যা আগামীর বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হলে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে।’

1
বেইলি রোডের বাসায় গেলে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান নাহিদ ইসলাম ছবি: বিএনপি

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এ নেতা। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী সরকার যেন কাজ করে।’

তারেক রহমান রাজধানীর বেইলি রোডে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদের বাসায় যান রাত পৌনে ৯টার দিকে। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এনসিপির পক্ষে আরো ছিলেন সদস্য সচিব ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

প্রথমেই তারেক রহমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নাহিদ ইসলাম। এরপর শহীদ আনাসের ফ্রেমে বাঁধা সেই মর্মস্পর্শী চিঠি উপহার দেন। এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির একটি স্টিলের তৈরি প্রতিকৃতিও বিএনপির চেয়ারম্যানকে উপহার দেন নাহিদ ইসলাম। পরে দুজন বসে আলোচনা শুরু করেন।

সাক্ষাতে তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই যাতে একসঙ্গে থাকতে পারেন, সংলাপের মধ্য দিয়ে যাতে যেকোনো সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো যায়। বিএনপির পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে।

তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন থাকলেও তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের জায়গা থেকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, এই রাজনৈতিক সৌজন্যতা এবং তার জয়ী হয়ে আসাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা কীভাবে একত্রে দেশের জন্য কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে কথা বলেছি। সংস্কারের প্রশ্নকে কীভাবে সুরাহা করা যায় এবং বিচারের প্রশ্ন নিয়েও কথা বলেছি আমরা।’ কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে কীভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ‘পলিসি ডায়ালগের’ (নীতি-সংলাপ) মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়েও তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান এনসিপির সদস্য সচিব।

নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি ও এনসিপির এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তনের আভাস দেয় উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকবে, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য আলাদা হবে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে সব দল একসঙ্গে থাকব। সে ধরনের পরিবেশ অটুট থাকবে, এ প্রত্যাশা আমরা রাখছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন-পরবর্তী যেসব সহিংসতা হচ্ছে, সেগুলো নিয়েও আমরা তারেক রহমানকে জানিয়েছি। তাদের দলের পক্ষ থেকে সে বিষয়গুলোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগদানের কোনো আহ্বান এনসিপি পেয়েছে কিনা, জানতে চাইলে আখতার হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী দল ও বিরোধী দল হিসেবে যারা ফাংশন করবেন, তাদের মধ্যকার একটা সম্পর্কের সূচনা হিসেবে এ সাক্ষাৎ ছিল এটা। অন্যান্য রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে এখানে আলোচনা হয়নি। সে বিষয়গুলো সামনের দিনে আমাদের মধ্যে আরো আলোচনা হবে। তখন এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানানো যাবে।’

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন ও জামায়াতের ঝুলিতে গেছে ৬৮টি। এছাড়া এনসিপি ছয়টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আগামীকাল নতুন সরকারের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *