উত্তরবঙ্গে তারেক রহমান, ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে পরিবর্তন
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডব্লিউএইচও
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
উত্তরবঙ্গে তারেক রহমান, ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে পরিবর্তন
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডব্লিউএইচও
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চ জলকামান-টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, জাবেরসহ অর্ধশতাধিক হাসপাতালে

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দিনভর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনের সড়কে এ সংঘর্ষ হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দিনভর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনের সড়কে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ ৫৫ জনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিকাল ৪টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তারা সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। লাঠিচার্জসহ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে থাকে। তার পাল্টায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, পরে তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিকাল ৫টায় সংগঠনটির ফেসবুক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হতে সহযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে হাদি হত্যার বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে গতকাল জুমার নামাজের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটির একটি অংশ। আরেকটি অংশ যমুনার সামনে অবস্থান অব্যাহত রেখেছিল। কিন্তু সকাল থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নেয়া সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক দফা চড়াও হয়। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জড়ো হওয়া কয়েকশ আন্দোলনকারীর ওপর লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। এ সময় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে যমুনার সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদেরও সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর বেলা সোয়া ১টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেয়া সরকারি কর্মচারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দেয়া পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগবিতণ্ডা চলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়।

সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, এ এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা আছে। এ এলাকায় কারো ঢোকা নিষেধ, ঢুকলে সেটি একটি অপরাধ।

এদিকে ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের পাঁচজন নারীসহ আহত অর্ধশতাধিক জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ছররা গুলিতে আহত হওয়ার দাবি করেন। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গুলির কোনো ক্ষতচিহ্ন পাননি। এছাড়া আহত অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীল ফোলা জখমের দাগ রয়েছে। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন মর্মে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আহত হন। এ নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ করা হলো।’

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। গতকাল বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারো শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এ সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশী বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এরই মধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন। সরকার দেশের সব নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এ নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *