ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চ জলকামান-টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, জাবেরসহ অর্ধশতাধিক হাসপাতালে
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
গণমিছিল
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চ জলকামান-টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, জাবেরসহ অর্ধশতাধিক হাসপাতালে
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
গণমিছিল
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডব্লিউএইচও

আক্রান্ত ওই নারীর কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। তার শরীরে প্রথম জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয় ২১ জানুয়ারি। এ ঘটনার পর রোগীর সংস্পর্শে আসা আরো ৩৫ জনকে পরীক্ষা করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এ ভাইরাসের জাতীয়, আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় বসবাসকারী ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ২৮ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার গলার সোয়াব ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরদিন পরীক্ষাগারে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা (আইএইচআর) অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট বিষয়টি ডব্লিউএইচওকে অবহিত করে।

সংস্থাটি জানায়, আক্রান্ত ওই নারীর কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। তার শরীরে প্রথম জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয় ২১ জানুয়ারি। এ ঘটনার পর রোগীর সংস্পর্শে আসা আরো ৩৫ জনকে পরীক্ষা করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এ নিয়ে মোট ৩৪৮টি নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগীর ক্ষেত্রেই কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও জানায়, সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা খেজুরের রস সংগ্রহ ও পানের মৌসুমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

এক সপ্তাহ আগে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের দুটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে ডব্লিউএইচও। ওই প্রাদুর্ভাব ঘিরে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে উদ্বেগ বেড়েছে এবং কিছু দেশে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করছে না সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচওর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সব স্তরেই কম। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও নিম্নমাত্রার বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

বর্তমানে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি—৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

গত সপ্তাহে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস নিপাহকে ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, রোগ নজরদারি ও পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *