
অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে ভুয়া ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলোর ছবি দেখে নিজের যন্ত্রণা ব্যক্ত করে গার্দিওলা বলেন, ‘আমি বুঝি না কীভাবে কেউ এ ছবি দেখে বিচলিত না হয়ে থাকতে পারে! প্রতিদিন বাবা-মা, সন্তানদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কেউ কি তাদের কষ্ট একটুও অনুভব করে না?’
ফুটবল মাঠের মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলা এবার সরব হলেন বিশ্ব রাজনীতির অমানবিকতা নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনে গণহত্যা, ইউক্রেন, সুদানসহ বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংসতা—সবকিছু নিয়ে সপাটে আক্রমণ চালালেন এই কিংবদন্তি কোচ। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া অভিবাসীদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান জানান গার্দিওলা। খবর গোল ডটকম।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের সাম্প্রতিক অভিযানে রেনে গুড ও আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটির নিহত হওয়ার ঘটনা গার্দিওলা সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে যুক্ত করেন। দৃশ্যত আবেগাপ্লুত সিটি কোচ বলেন, এ ধরনের নির্মমতার সাফাই কোনো প্রশাসনই দিতে পারে না। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটেছে দেখুন। রেনে গুড এবং নিবিড় পরিচর্যা নার্স অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হয়েছেন। কল্পনা করুন, এনএইচএস-এ পাঁচ-ছয় জনকে ঘিরে ধরলেন, ঘাসের ওপর ফেলে দিলেন এবং ১০টি গুলি! বলুন, এটা কীভাবে সমর্থন করা যায়?’
ইংল্যান্ডে কোচিং জীবন জুড়ে রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে চললেও গার্দিওলা বলেন, আজকের দৃশ্যমান বাস্তবতা তাকে আর নীরব থাকতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, আগে পারতাম না। এটা আমাকে ব্যথা দেয়। যে পক্ষই হোক, এটা আমাকে কষ্ট দেয়। দুঃখিত, আমি দাঁড়াবই—সব সময়। নিরপরাধ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা? এটা আমাকে আঘাত করে। বিষয়টা এতটাই সহজ।‘
যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ ছাড়িয়ে গার্দিওলা বিশ্বব্যাপী চলমান সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন। বিশেষভাবে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে তিনি সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মানব ইতিহাসে কখনো এমন হয়নি। আজ আমরা সবচেয়ে বেশি তথ্য, সবচেয়ে স্পষ্ট ছবি দেখি। ফিলিস্তিনে গণহত্যা, ইউক্রেনে যা হচ্ছে, রাশিয়ায় যা হচ্ছে, সুদানসহ বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে—সবই চোখের সামনে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি তা দেখতে চাই? এটা আমাদের মানবিক সমস্যার জায়গা।‘
যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলোর ছবি দেখে নিজের যন্ত্রণা ব্যক্ত করে গার্দিওলা বলেন, ‘আমি বুঝি না কীভাবে কেউ এ ছবি দেখে বিচলিত না হয়ে থাকতে পারে! প্রতিদিন বাবা-মা, সন্তানদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কেউ কি তাদের কষ্ট একটুও অনুভব করে না?’
কেন এতদিন পর এসব বিষয়ে মুখ খুলছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গার্দিওলা গণমাধ্যমের দিকেই আঙুল তোলেন। তিনি অবাক হয়ে বলেন, ‘গত ১০ বছরে এই প্রথম কোনো সাংবাদিক আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। মনে হয় আপনাদের (মিডিয়া) হয়তো এসব নিয়ে কাজ করার অনুমতি নেই। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ আর ধ্বংসলীলা দেখেও কার মন কাঁদবে না?’
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ইস্যুতে মৌনতা পালন করলেও গার্দিওলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখন থেকে সবসময়ই তাকে সোচ্চার দেখা যাবে।


