
মাদারীপুরে তিন আসনের দুটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬দুদিনে ২১ জেলায় ব্যালট পেপার পাঠাল নির্বাচন কমিশন
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা কর্মসূচি আরো জোরালো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা কর্মসূচি আরো জোরালো হচ্ছে। তিনদিন ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির পর আজ সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা শ্রমিক-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন বন্দরে তাৎক্ষণিক বদলির ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা জানান, সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে কনটেইনারভিত্তিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে। এরই মধ্যে খালাস প্রক্রিয়া ধীর হয়ে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার জমতে শুরু করেছে। দেশে কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৯৯ শতাংশই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও বাণিজ্যিক পণ্যের বড় অংশ কনটেইনারে আমদানি হয়। একইভাবে রফতানি পণ্যের প্রায় পুরোটাই পাঠানো হয় কনটেইনারে। তারা বলছেন, দীর্ঘ কর্মসূচির ফলে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার খালাস ও ডেলিভারি বন্ধ থাকায় বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে হচ্ছে।
টি কে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোস্তফা হায়দার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের সাপ্লাই চেইনের লাইফলাইন। যারা বাল্ক পণ্য আমদানি করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রভাব তুলনামূলক কম। কারণ বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস হয়ে নদীপথে চলে যাচ্ছে। কিন্তু কনটেইনারভিত্তিক শিল্প-কারখানার কাঁচামাল বন্দরের জেটিতে এনে খালাস করতে হয়। এখানে কাজ বন্ধ থাকলে ডেলিভারিতে বিলম্ব হবে, পোর্ট ড্যামারেজ বাড়বে। এ মাসে কার্যদিবস মাত্র ১৬ দিন। খালাসের গতি কমে গেলে বন্দরের ভেতরে আবার কনটেইনারজট তৈরি হবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, একবার জট তৈরি হলে স্বাভাবিক হতে অনেক দিন সময় লাগে। এতে পুরো সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সামনে রমজান ও নির্বাচন থাকায় উদ্বেগ আরো বাড়ছে।’
রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের মতে, বন্দরের মাধ্যমে রফতানি পণ্যের সিংহভাগই তৈরি পোশাক শিল্পের। আন্দোলন দীর্ঘ হলে জেটিতে জাহাজ ভিড়তে অপেক্ষার সময় বাড়বে। ফলে সময়মতো কাঁচামাল না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে।
চট্টগ্রামভিত্তিক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘৮ ঘণ্টার কর্মসূচি চলাকালে আমরা রাতে হলেও ডেলিভারি পাচ্ছিলাম। তাতেই কনটেইনারজট তৈরি হচ্ছিল। এখন কর্মসূচি ২৪ ঘণ্টায় গেলে রফতানিকারকরা বড় সংকটে পড়বেন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, সাপ্তাহিক ছুটি ও শবেবরাত মিলিয়ে কার্যদিবস খুবই কম। এদিকে চায়নায় ১৬ দিনের বড় বন্ধ ঘনিয়ে আসায় তারা আগেই কাঁচামাল পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো না পেলে উৎপাদন নিশ্চিতভাবে পিছিয়ে যাবে। তখন রফতানি পণ্য নিয়ে ফিডার ভেসেল সিঙ্গাপুর বা কলম্বোতে গিয়ে মাদার ভেসেলের সংযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। নতুন সিজনের কাজ শুরু হয়েছে, এ সময় কোনো বড় ব্যাঘাত একেবারেই কাম্য নয়।’
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থায় তৈরি পোশাক খাতের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাক খাতের আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তৈরি পোশাক খাত সময় ও সিজননির্ভর একটি রফতানিমুখী শিল্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রফতানি করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির কারণে রফতানি আদেশ বাতিল হওয়া কিংবা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।’
অন্যদিকে আন্দোলনের মধ্যেই গতকালও ১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে খুলনার মোংলা ও পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। বদলির তালিকায় আন্দোলনের দুই সমন্বয়কও রয়েছেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা অফিস আদেশে দাপ্তরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তির কথা বলা হয়েছে।
এর আগে তিন দফা আদেশে এসব কর্মচারীকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপো ও পানগাঁও নৌ-টার্মিনালে বদলি করা হলেও তারা সেখানে যোগ দেননি। সর্বশেষ নতুন আদেশে তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্ত করা হলো।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই এনসিটি ইজারা দেয়ার এ সিদ্ধান্ত মেনে নেব না। মঙ্গলবার (আজ) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি।’
আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কর্মসূচির অংশ হিসেবে বন্দরের ভেতরে পণ্য পরিবহন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও আমদানি পণ্যের ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হবে।’
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনসিটি-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। আর বন্দর কর্মীদের বদলির আদেশগুলো স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।’


