
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শ্রীলংকা কোন পথে বাংলাদেশ
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক শ্রমিক-কর্মচারীদের
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬মাদারীপুরে সংসদীয় আসন রয়েছে তিনটি। দেশ স্বাধীনের পর অধিকাংশ নির্বাচনেই আসনগুলো ছিল আওয়ামী লীগের দখলে।
মাদারীপুরে সংসদীয় আসন রয়েছে তিনটি। দেশ স্বাধীনের পর অধিকাংশ নির্বাচনেই আসনগুলো ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। তবে দলীয় প্রার্থীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহীরা। যদিও সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তিন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে দলটি। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তেমন একটা চোখে পড়ছে না। এ সুযোগই কাজে লাগতে চান জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা।
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন চৌধুরী নাদিরা আক্তার। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামাল জামান মোল্লা ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়া জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আকরাম হুসাইন, গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান।
মূলত আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ অঞ্চলের রাজনীতির চিত্র অনেকটা বদলাতে শুরু করে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও মাঠের রাজনীতিতে আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদেরও মাঠে দেখা গেছে। তবে ভোটাররা বলছেন, এ আসনে ভোটে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। তারা যেদিকে ঝুঁকবেন, জয়ের সম্ভাবনা তারই বেশি। বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরাও।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপিতে এক সময় কোন্দল ছিল। একাধিক নেতার বলয়ে যুক্ত ছিলেন কর্মীরা। এ কোন্দল ২০১৪ সালের ৫ আগস্টের পরও নিরসন হয়নি। বিএনপির সমর্থকরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
যদিও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার বলেন, ‘শিবচরে বিএনপিকে বিজয়ী করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে শিবচরে বিএনপি জয়লাভ করবে।’
ভোটাররা বলছেন, শুধু দলীয় প্রতীক নয়, ব্যক্তি ইমেজও গুরুত্বপূর্ণ হবে এবারের ভোটে। যিনি মানুষের পাশে থাকবেন, যার কাছে সহজেই মানুষ যেতে পারবে, তাকেই ভোটাররা নির্বাচিত করবেন।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে যুক্ত হয়েছেন তার বড় ভাই আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ দলটির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।
কামাল জামান মোল্লা বলেন, ‘আমাকে বিএনপি থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েও ষড়যন্ত্র করে বাদ দেয়া হয়েছে। শিবচর উপজেলার জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখতে চায়। তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীকে নির্বাচন করছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে এই আসনটি বিএনপিকেই উপহার দেব।’
সদর উপজেলার একাংশ ও রাজৈর নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-২ আসন। আসনটিতে প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। জাহান্দার আলী মিয়া দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা মিল্টন বৈদ্য। এছাড়া ভোটের মাঠে রয়েছেন মুহা. কামরুল ইসলাম সাঈদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আহমাদ চৌধুরী, ১১ দলীয় জোটের মুফতি আব্দুস সোবহান, জাতীয় পার্টির মো. মহিদুল ইসলাম হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক দলের মো. দিদার হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সুবল চন্দ্র মজুমদার, ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম খান ও মো. রেয়াজুল ইসলাম।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের মাঠে মূল লড়াই হতে পারে জাহান্দার আলী মিয়ার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যের। দুই প্রার্থীরই শক্ত বলয় থাকায় আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। মাদারীপুর সদর অংশে জাহান্দার আলী ছাড়াও মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী ও মুফতি আব্দুস সোবহানেরও অনুসারী রয়েছে। রাজৈর অংশে মিল্টন বৈদ্য ছাড়াও মুহা. কামরুল ইসলাম সাঈদও ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে স্থানীয় বিএনপির এক বিএনপি কর্মী বলেন, ‘জাহান্দার আলী আর মিল্টন বৈদ্য দুজনের মধ্যেই মূল লড়াই হবে।’
তবে ভোটাররা বলছেন, মাদারীপুর-২ আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক। যে প্রার্থী মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নত করাসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করতে পারবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন, তাকেই বেছে নিতে চান তারা।
কালকিনী, ডাসার ও সদরের একাংশ নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ আসন। এবার নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার (খোকন)। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। আসনটিতে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ভোটোর মাঠে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম মৃধা। ভোটাররা বলছেন, মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘দলের তৃণমূল পর্যায়ের সবাইকে নিয়ে ঐক্য গড়েছি। সবাই আমার হয়ে মাঠে নেমেছে। ভোটের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। জনগণেরও ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, দলমত নির্বিশেষে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।’
কালকিনী পৌর জামায়াতের আমির ও দলটির প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জয়ের আশা নিয়েই জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। জনগণ তাদের জীবনমানের উন্নতি চায়। এত বছরে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে তেমন পরিবর্তন আসেনি। নতুন বাংলাদেশে মানুষ পরিবর্তনের স্বাদ নিতে চায়। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’


