টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে পাম অয়েলের দাম
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিভক্ত নয়, সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই : জামায়াতের আমির শফিকুর
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে পাম অয়েলের দাম
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিভক্ত নয়, সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই : জামায়াতের আমির শফিকুর
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

তৃতীয় লিঙ্গের একমাত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে চাই

আমি ছোট থেকেই বৈষম্যের শিকার। ছোটবেলায় যখন মেয়েদের সঙ্গে খেলতে যেতাম, তারা খেলায় নিত না। বলত তুই ছেলেদের মতো। আবার ছেলেরাও আমাকে খেলায় না নিয়ে নানা কটু মন্তব্য করত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতীক হরিণ। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রাধান্য দিচ্ছেন দেশের প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে। নির্বাচনের পরিবেশ, প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এসএম পিয়াল

তৃতীয় লিঙ্গের একজন থেকে জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী—আপনার এ যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাই।

আমি ছোট থেকেই বৈষম্যের শিকার। ছোটবেলায় যখন মেয়েদের সঙ্গে খেলতে যেতাম, তারা খেলায় নিত না। বলত তুই ছেলেদের মতো। আবার ছেলেরাও আমাকে খেলায় না নিয়ে নানা কটু মন্তব্য করত। বলতে গেলে চরম প্রতিকূল পরিবেশে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। তখন থেকে আমি চিন্তা করতাম, আমাদের নিয়ে সমাজের যে চিন্তাভাবনা, সেগুলো কীভাবে পরিবর্তন করা যায়। প্রথমে আমি যেটা করলাম, সেটি হচ্ছে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর একটি তালিকা করে সেগুলো পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করলাম। যখন বড় হলাম আমাদের জনগোষ্ঠীর ৪০০ মানুষ নিয়ে নারী অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থা তৈরি করি। ৬০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি। ৩২ জনের শিক্ষার ব্যবস্থা করি। এ সংগঠনের মাধ্যমে মানবসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করছি।

আপনি এর আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এবার কেমন অভিজ্ঞতা হচ্ছে?

আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইনি। কিন্তু এলাকার মানুষ আমাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। তাদের কথা চিন্তা করেই ভোট করছি। আগের চেয়ে আমার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জনসংযোগে গিয়ে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি এ মানুষগুলোর উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

নির্বাচনের খরচ কোথায় পাচ্ছেন?

আমার প্রচার-প্রচারণা সীমিত। নিজের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তা দিয়ে এবং মানুষ ভালোবেসে আমার নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতা করছে।

নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

অনেক প্রার্থী মারমুখী আচরণ করছেন। এ কারণে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছি না। ভোটারদের মধ্যেও একটা আতঙ্ক ভাব বিরাজ করছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে মনে হচ্ছে।

রাজনীতিতে কেন এলেন?

আমরা যারা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ—বেদে, দলিত, সাঁওতাল, হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ), সনাতন, উর্দুভাষী ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করি। কিন্তু সংসদে গিয়ে কোনো নেতাই আর আমাদের কথা বলেন না। আমি এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে তাদের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে চাই।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কী কী করবেন?

আমার নির্বাচনী এলাকার বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থানের অভাব। তাই আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে চাই। সবার জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। এখানকার আরেকটি বড় সমস্যা হলো স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পায় না। আমি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। রংপুর মহানগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনসহ খালের সৌন্দর্য বাড়াতে চাই। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি রংপুরকে গড়ে তুলতে চাই একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে। এলাকায় গ্যাসপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখতে চাই আমি।

রংপুর জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানকার মানুষ কেন আপনাকে ভোট দেবে?

আমি কোনো প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে ভোট করছি না। আমার লড়াই হচ্ছে দেশের সব প্রান্তিক মানুষের জন্য। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত—সব দলের সমর্থকরাই আমাকে পছন্দ করেন। এলাকার সাধারণ মানুষ আমাকে পছন্দ করেন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমাকে ভোট দেবেন বলে আশাবাদী।

নারী ও তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?

নারীদের সঙ্গে যেসব বৈষম্য হয়, আমি জয়লাভ করলে সেগুলো দূর করার জন্য কাজ করব। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের জন্য এরই মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমি নির্বাচিত হলে নারীর অধিকার ও মর্যাদার জন্য সর্বদা কাজ করব। তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য সম্মানজনক কাজের ব্যবস্থা করব, পাশাপাশি এ জনগোষ্ঠী যাতে পরিবার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্যও সমাজে সচেতনতা তৈরির কাজ করব।

আমার স্বামী নেই, সংসার নেই। আমার কোনো পিছুটানও নেই। আর আমি কোনো দলের কাছে দায়বদ্ধও নই। তাই কথা দিচ্ছি, আমি মানুষের উন্নয়নে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করব। এজন্য এলাকার মানুষের কাছে একবার সুযোগ চাই। তাদের ভোট চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *