প্রার্থিতা ফিরল ৪৩১ জনের, ভোটের মাঠে ১৯৬৭ প্রতিদ্বন্দ্বী
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
আইন বা অধ্যাদেশ দিয়ে সব সংস্কার স্থায়ী করা সম্ভব নয় —প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
প্রার্থিতা ফিরল ৪৩১ জনের, ভোটের মাঠে ১৯৬৭ প্রতিদ্বন্দ্বী
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
আইন বা অধ্যাদেশ দিয়ে সব সংস্কার স্থায়ী করা সম্ভব নয় —প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা
জানুয়ারি ২১, ২০২৬

কুড়িগ্রামে সেতুর পাটাতন ভেঙে যানচলাচল বন্ধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত শতবর্ষী সোনাহাট সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে পড়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত শতবর্ষী সোনাহাট সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। গতকাল সকাল ৬টার দিকে ইটবোঝাই একটি ট্রাক সেতুতে উঠতেই বিকট শব্দে ডেবে যায় স্টিলের পাটাতন।

স্থানীয়রা বলছেন, ১০ টন ধারণক্ষমতার এ সেতুতে ৩৯ টন ইটবোঝাই ট্রাক ওঠায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভাগ্য ভালো, কোনো প্রাণহানি হয়নি। ঘটনার পর পরই সেতুর দুই পাশে আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। কারো অফিসে যাওয়ার তাড়া, কেউ পরীক্ষা দিতে ছুটছিল, কেউ গরু নিয়ে হাটে যাচ্ছে। নদীর ওপারে যেতে তখন তারা খুঁজছিল ছোট ছোট নৌকা। ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয়েছে দুধকুমার নদ।

রাহিজুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সময়মতো বের হয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখি সেতু ভেঙে গেছে। অফিসে যেতে হবে, উপায় না পেয়ে নৌকায় নদী পার হলাম।’

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সেতুটির ধারণক্ষমতা ১০ টন। কিন্তু ট্রাকটি বহন করছিল ৩৯ টন। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, কাশেম ও রাসেল জানান, সকালে গরু নিয়ে হাটে পৌঁছলে ভালো দাম পাওয়া যায়। আটটি গরু নিয়ে ভটভটিতে এসেছিলাম। এসে দেখি সেতু বন্ধ, নৌকার জন্য অপেক্ষা করছি। সময়মতো না গেলে লোকসান হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি বহুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যেই পাটাতন ডেবে যায়। তার পরও জীবিকার তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করছে। স্থলবন্দরের ব্যবসা, তিন ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ সবকিছুই এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

সেতুটি নির্মাণ হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে, ১৮৮৭ সালে। লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইনের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণ করা হয় প্রায় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকাতে এর একটি অংশ ভেঙে দেয়া হয়। স্বাধীনতার বহু বছর পর এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক সেতু হিসেবে মেরামত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *