ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

জুলাই সনদে সই করবে কি এনসিপি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সাত মাসে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সাত মাসে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। সেদিন ২৪টি এবং পরবর্তী সময়ে আরো একটি দল সনদে সই করে। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যায়নি এবং এখনো তারা সনদেও সই করেনি। যদিও ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে এ সনদের ওপর অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোর প্রচারে নেমেছে দলটি। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, সনদে সইয়ের চেয়ে সেটি বাস্তবায়নে তারা বেশি মনোযোগ দিতে চান। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারে ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ‘মুক্তির মূল সনদ গণভোটে হ্যাঁ ভোট’—এ রকম স্লোগানে ঘুরছে এ গাড়ি।

গত ৪ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে কিনা এমন বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেয়ার প্রশ্নে আমরা স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিলাম। সে সময় স্বাক্ষর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের বলা হয়েছিল। আমরা মনে করি পরে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জারি হলেও তা অস্পষ্ট। এর পাশাপাশি জুলাই সনদের স্বাক্ষরকে স্রেফ সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছি। তাই আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আমরা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি এর বাস্তবায়নে। আমাদের লক্ষ্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন আদায় করা।’

গত বছরের ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দুইদিন আগে অনিশ্চয়তা কাটাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে অতি জরুরি বৈঠকে বসেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সেই বৈঠক শেষে সনদে সই করার ক্ষেত্রে এনসিপির কিছু শর্ত রয়েছে উল্লেখ করে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছিলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতির সামনে স্পষ্ট পথনকশা উপস্থাপন করবে; আদেশের বিষয়ে কী হবে, গণভোটের প্রশ্ন কী হবে এবং সামনের সংবিধানে এ বিষয়গুলো কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়গুলো খোলাসা করার দাবি জানিয়েছি।’

সে সময় বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় জুলাই সনদ ২০২৫। এর মাসখানেক পর গত ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এ আদেশের অধীনেই ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদের মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট হবে।

জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেয়ার দাবি পূরণ হওয়ায় দলটি এখন স্বাক্ষর করতে আগ্রহী বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন এনসিপির ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে যখন আহ্বান করা হয় তখন আমরা সনদটির আইনি বাধ্যবাধকতা চেয়েছিলাম। সেই দাবিতে আমরা স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিলাম। পরবর্তী সময়ে আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রণয়ন করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি গণভোটের আগে এনসিপিসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যদি একই দাবিতে সই করা থেকে বিরত থেকে থাকে তাদের সরকার স্বাক্ষরের সুযোগ দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে বিষয়টি খুব সুন্দর হবে। এখন গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করছি। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে কাজ করাটা আমাদের জন্য আরো বেশি অর্থবহ হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রশ্নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতেও করে যাব। এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। যেকোনো মূল্যে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করব।’

নতুন করে জুলাই সনদে কোনো দলের সই করার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য এবং সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এর সঙ্গে আমি আর সম্পৃক্ত নেই। ফলে স্বাক্ষরের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে কীভাবে হবে সেটি নিয়ে অবগত নই।’

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‌‘জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণভোট অনুষ্ঠানের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু জনগণের ওপর কিছু চাপিয়ে দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এ কারণেই সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের শেষ ধাপটি জনগণের প্রতিনিধি, অর্থাৎ সংসদের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংস্কার আদেশ অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবেন। গণভোটের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের বাধ্য করার কোনো আইনি উপায় নেই। এটি একটি নৈতিক, নীতিগত ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা।’

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা। সেদিন বিএনপি-জামায়াতসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল সনদে সই করে। তবে সেদিন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও তাতে সই করেনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দল গণফোরাম। তবে দুদিন পরই দলটি সনদে সই করে।

উল্লেখ্য, এনসিপি ছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদও জুলাই সনদে সই করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *