
জুলাই সনদে সই করবে কি এনসিপি
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ঢাকায় ট্রাস্টি বোর্ড সভায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান অ্যাডভোকেট এলিনা খানের
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান গতকাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এ রিট করেছেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব; স্বরাষ্ট্র সচিব; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব; নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট পিটিশনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এ নির্বাচন হবে রক্তক্ষয়ী। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
রিট আবেদনে তাই লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রি ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ বিষয়ে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তবে নোটিস পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় তারই ধারাবাহিকতায় রিটটি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের আপামর ভোটারদের নিরাপত্তায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমতাবস্থায়, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ “জীবনের অধিকার”-এর চরম লঙ্ঘন হবে। তাই রিট পিটিশনে লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’


