ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
জুলাই সনদে সই করবে কি এনসিপি
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
জুলাই সনদে সই করবে কি এনসিপি
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দেশটিতে যেকোনো সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দেশটিতে যেকোনো সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার আশঙ্কায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় কাতারের উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যকে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পেন্টাগন ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিক সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করেছে। যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোও রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, সাইবার হামলা বা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আঘাত করার মতো বিকল্পগুলো তুলনামূলকভাবে সম্ভাব্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সক্ষম ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন আছে। এর মধ্যে ইউএসএস রুজভেল্ট সম্প্রতি লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানান এ অঞ্চলে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী সাবমেরিনও মোতায়েন রয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযানের সময় ও পরিধি এখনো অনিশ্চিত। এ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা করতে পারে। ইরানের দাবি, তারাও পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকির মুখে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ গতকাল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইরান পুরো অঞ্চল আগুনে জ্বালিয়ে দেবে।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে বার্তা দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে থাকা হটলাইন স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে কিছু মার্কিন সামরিক কর্মীকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এদিকে দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে। তাদের একজনের মতে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হতে পারে। কাতার জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে জনবল কমানোর উদ্যোগ বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেয়া হচ্ছে। তিন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, ঘাঁটির কিছু কর্মীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। তবে গত বছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক আগে যেমন বিপুলসংখ্যক সেনাকে বাসে করে স্টেডিয়াম ও শপিং মলে সরিয়ে নেয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, এবার এখন পর্যন্ত তেমন বড় আকারের সরিয়ে নেয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।

এদিকে গতকাল ইরানের বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তাকর্মীদের জানাজায় বিপুল পরিমাণ লোকসমাগম দেখা গেছে। সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা এখনো বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় বিক্ষোভের তথ্যপ্রবাহ ঠিক রাখতে দেশটিতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ইলোন মাস্কের স্টারলিংক। প্রযুক্তি খাতের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্সের নির্বাহী পরিচালক আহমদ আহমাদিয়ান বলেছেন, আগে নিষ্ক্রিয় থাকা ইরানের স্টারলিংক অ্যাকাউন্টগুলো এখন সচল করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা উইটনেসের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহসা আলিমারদানি বলেছেন, ইরানে আনুমানিক ৫০ হাজার স্টারলিংক রিসিভার রয়েছে। তার মতে, এ সংখ্যা বাড়াতে পারলে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে এবং চলমান সহিংসতা নথিবদ্ধ করতেও তা সহায়ক হবে। তবে ইরানের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক মানুষেরই স্টারলিংকে প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং দেশটির সরকার চাইলে সেবাটি জ্যাম বা বিঘ্নিত করতে পারে।

এদিকে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তবে ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান সরকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শিগগির বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইরানের কর্তৃপক্ষ সহিংস দমন-পীড়নের মাধ্যমে ২৪০০ জনেরও বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানে গত কয়েকদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, ১৪৭ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ১৮ বছরের কম বয়সী ১২ জন এবং বিক্ষোভে জড়িত নন এমন নয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মৃতের এ সংখ্যা গত কয়েক দশকে ইরানে সংঘটিত যেকোনো বিক্ষোভ বা অস্থিরতার তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে এটি দেশটির ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। মূল্যস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ গত তিন বছরে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ অস্থিরতা দেখা দেয়। মূলত গত ডিসেম্বরের শেষদিকে এ বিক্ষোভ শুরু হয় এবং খুব দ্রুত তা দেশটির শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *