ঢাকায় মাঠ পার্ক জলাশয় দখল হলেও পরিবেশ আন্দোলনে নীরবতা
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ভোটের আগের মাসে রেমিট্যান্সে ৭২% প্রবৃদ্ধি
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ঢাকায় মাঠ পার্ক জলাশয় দখল হলেও পরিবেশ আন্দোলনে নীরবতা
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ভোটের আগের মাসে রেমিট্যান্সে ৭২% প্রবৃদ্ধি
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

সিজিএস সংলাপে বক্তারা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় সরকারের

সরকারের কাছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার ১০ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে; সাংবাদিকদের ওপর একাধিক হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের কাছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার ১০ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে; সাংবাদিকদের ওপর একাধিক হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এসব ঘটনার ক্ষেত্রে দুঃখ প্রকাশের বাইরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে সরকারকে দেখা যায়নি। সংবাদপত্রের অফিসে অগ্নিসংযোগ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার সব দায় বর্তমান সরকারেরই। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার: বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিল্লুর রহমান।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, ‘সরকারের কাছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার ১০ মাসের বেশি হয়ে গেছে। প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক মাস পর আমার নিজের প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে ফেলা হলো। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর যেসব সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ হয়েছে, হেনস্তা হয়েছে তার সব দায় এ সরকারের।’

গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দিলেও মবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে মবের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আছে। সরকার মবকে প্রশ্রয় দিয়েছে, এর দায় সরকারের।’

কমিশনের সাবেক প্রধান বলেন, ‘অনুমান করা হয়েছিল আমলাতন্ত্রের মধ্য দিয়ে আমাদের সুপারিশের বিরোধিতা আসবে, সেজন্য আইনের খসড়া করে দিয়েছি। নাহিদ ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর পরই নিজেদের দল তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। মাহফুজ আলম চেষ্টা শুরুর পর আমলাতন্ত্র তাকে কাজ করতে দিল না। এখানেও সরকারের ব্যর্থতা আছে। মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের বদলে দেয়া যেত, কিন্তু সেটা করার কোনো চেষ্টাও হয়নি।’

অনুষ্ঠানে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গণমাধ্যম নিজেরাই সমস্যা সমাধানে ইচ্ছুক নয়। সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমের যতটুকু বলা দরকার সেটুকুও বলেছে বলে মনে হয় না। আমাদের মিডিয়াগুলো এখনো স্বাধীন হয়ে উঠতে পারেনি এবং সে সদিচ্ছাও তাদের নেই। আমাদের দুটি সংবাদপত্রের অফিস পোড়ানো হলো, সরকারের কেউ কিছু করলেন না। পরদিন দুঃখ প্রকাশ করলেন। বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে যারা আছেন বা ছিলেন, তাদের কার কী যোগ্যতা এবং গত ১৫-১৬ বছরে তারা কে কোথায় ছিলেন, সেগুলো দেখলে অনেক কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে।’

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এখন সেন্সরশিপের থেকে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সরকারের জায়গা থেকে এ জিনিসগুলো নিয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগে এক ধরনের দলীয়করণ ছিল, এখন আরেকভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। দলনিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করার মধ্য দিয়েই আমাদের একসঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জি-৯-এর সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এসএম শামীম রেজা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ, জাপানভিত্তিক এনএইচকে টিভির বাংলাদেশ প্রতিনিধি পারভীন এফ চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান, ইরাবতীর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. মুক্তাদির রশীদ, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কাজী জেসিন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *