সিজিএস সংলাপে বক্তারা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় সরকারের
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
সিজিএস সংলাপে বক্তারা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় সরকারের
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

ভোটের আগের মাসে রেমিট্যান্সে ৭২% প্রবৃদ্ধি

দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তার আগের মাস জানুয়ারিতেই রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৫৯ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার।

দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তার আগের মাস জানুয়ারিতেই রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৫৯ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এ পরিমাণ রেমিট্যান্স এর আগে আর কখনই আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের জানুয়ারির প্রথম ১৩ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৯২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি বছরের একই সময়ে এসেছে ১৫৯ কোটি ডলারেরও বেশি। সে হিসাবে এ সময়ে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ, যেখানে চলতি অর্থবছরে গড় প্রবৃদ্ধি ২১ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত রমজান ও ঈদকে ঘিরে দেশে রেমিট্যান্স বেশি আসে। কিন্তু চলতি জানুয়ারিতে এ ধরনের কোনো উৎসব নেই। এ বছরের রোজা শুরু হতে পারে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। আর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে তারও এক মাস পর। জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সের যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, সেটি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তৈরি বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সে যে প্রবাহ দেখা গেছে, বাকি সময়ে সেটি অব্যাহত থাকলে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড গড়বে।

দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাধ্যমে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে গত দুই মাসে এ প্রবৃদ্ধি আরো বেড়েছে। কেবল ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। দেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে আসা, বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা ও ব্যাংক খাত ব্যবহার করে টাকা পাঠানো সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।’

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বিরাজমান উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান তথা গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রবাসীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈধ পথে বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে থাকেন। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দেশে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। ওই অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা আগের চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। গত জুলাই থেকে চলতি জানুয়ারির ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসীরা ১৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দেশের ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। একই সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ডলার সংকটের কারণে ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকেই দেশে রিজার্ভের ক্ষয় শুরু হয়। ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া রিজার্ভ দুই বছরের মধ্যে অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসে। গত অর্থবছরের শুরু থেকে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করেছে। ডলার প্রবাহ উদ্বৃত্ত থাকায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনা ডলারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

দেশে রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে সামনের সারির ব্যাংকগুলোর একটি অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচনের চেয়েও প্রবাসীরা রোজা ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স বেশি পাঠাচ্ছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রবাসীদের মধ্যে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, সেটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, বছরের বাকি সময়েও রেমিট্যান্সের এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *