
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ কলম্বিয়ায় নিরাপত্তা ও শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা
জানুয়ারি ৫, ২০২৬
ফাতেমা চরিত্রে দর্শকের হৃদয়ে দীপা খন্দকার
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ভারত ও শ্রীলংকার মাঠে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ বসছে ছেলেদের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। ২০ দলের এ বৈশ্বিক আসর শুরু হতে যখন এক মাসের মতো বাকি, তখনই কিনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়ে দিল—বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
ভারত ও শ্রীলংকার মাঠে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ বসছে ছেলেদের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। ২০ দলের এ বৈশ্বিক আসর শুরু হতে যখন এক মাসের মতো বাকি, তখনই কিনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়ে দিল—বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ দাবি করেছে, বিসিবির আবেদনে সাড়া দিয়েছে আইসিসি এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ হবে শ্রীলংকায়। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেয়ার ইস্যু নিয়ে শনিবার থেকে উত্তাল বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এমন সিদ্ধান্তের রেশেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বলে গুঞ্জন চলছিল দিনভর। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিসিবি।
আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেয়া হয়।
গতকাল বিকালে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা বসে, যেখানে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় ভারত ও শ্রীলংকায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুস্তাফিজ ইস্যুতে শনিবার থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাপুঞ্জের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিসিবির পরিচালকরা।
সন্ধ্যায় পাঠানো বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ আমলে নিয়ে বোর্ড এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বর্তমান অবস্থায় জাতীয় দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত পাঠানো হবে না। কেননা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বিসিবি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিসিবি এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের আয়োজক আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে ভারতের মাটিতে নির্ধারিত বাংলাদেশের সব ম্যাচ অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বোর্ড মনে করছে, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য। বিসিবি আশা করছে, আইসিসি পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
শনিবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক সিদ্ধান্তে গভীর সংকট তৈরি হয়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেয়ার দাবি তোলে ভারতীয় জনতা পার্টির কিছু নেতাসহ দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের চাপেই বিসিসিআই কলকাতাকে নির্দেশ দেয় যেন মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়া হয়। নির্দেশ মেনে নাইটরা ছেড়ে দেয় মুস্তাফিজকে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশে ভীষণ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিসিবিকে নির্দেশ দেন বাংলাদেশ দল যেন ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না যায় এবং এটি নিশ্চিতে আইসিসিকে বিস্তারিত লিখে চিঠি দেয় বিসিবি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে বিসিবি পরিচালকরা অনলাইনে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পরিচালকদের বেশির ভাগই কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। পরিচালকরা সরকারের বিরুদ্ধে যেতে চাননি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের চারটি ম্যাচই ভারতে খেলার কথা বাংলাদেশ দলের। এর মধ্যে তিনটি কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে, বাকি ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। যদিও বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। গতকাল ১৭ জন বোর্ড পরিচালককে নিয়ে হওয়া সভায় এমন জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
শনিবার ফেসবুক পোস্টে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘যেখানে একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা ও খেলার নিশ্চয়তা নেই, সেখানে গোটা দল নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’
তার নির্দেশনার পরই আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। গতকাল বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই গতকাল বেলা ৩টা ২২ মিনিটে ক্রীড়া উপদেষ্টা এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
এদিকে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসি। ভারত আয়োজক দেশ। আমরা যা বলার আইসিসিকেই বলব।’ বাংলাদেশ কি তাদের সব ম্যাচ পাকিস্তানের মতোই শ্রীলংকায় খেলবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বুলবুল বলেন, ‘আমাদের খেলার উপযুক্ত জায়গা ঠিক করবে আইসিসি।’
যদিও বুলবুল যে আইসিসির দিকে তাকিয়ে আছেন সেই সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র জয় শাহ। বিসিবি যখন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারস্থ তখন এর চেয়ারম্যান জয় শাহ কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটি দেখার আগ্রহ সবার।
আইসিসির কাছে বিসিবি আনুষ্ঠানিক আবেদন জানালেও কঠোর অবস্থানে বিসিসিআই। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বিসিবির নাম উল্লেখ না করে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কারো ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে ম্যাচের জায়গা বদল করা যায় না। এতে পুরো ব্যবস্থায় সমস্যা হতে পারে। অন্য দলগুলোর কথাও তো ভাবতে হবে। সব দলের জন্য হোটেল, বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এছাড়া, প্রতিদিন তিনটি করে ম্যাচ রয়েছে। একটি করে ম্যাচ হবে শ্রীলংকায়। সূচি অনুযায়ী, সম্প্রচারকারীরা তাদের দলগুলোকে নিয়োগ করে। মুখে বলা যতটা সহজ, কাজটা মোটেও তত সহজ নয়।’
বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে ম্যাচের জায়গা বদল করতে তারা রাজি নন। তাছাড়া আইপিএলের সঙ্গে বিশ্বকাপকে এক করে দেখতে চাইছেন না তিনি।
গতকাল ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলংকায় স্থানান্তর করতে আপত্তি করছে না। তবে এমন সিদ্ধান্ত এলে টুর্নামেন্টের সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা কয়েকদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত করা সম্ভব। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে খেলবে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে।


