
জাপানে ১ লক্ষ শিক্ষার্থী ও কর্মী প্রেরণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে AJLIB-এর ঐতিহাসিক উদ্যোগ
জানুয়ারি ৫, ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ দল
জানুয়ারি ৫, ২০২৬শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের ঘটনার পরপরই কলম্বিয়া সরকার জরুরি বৈঠক ডেকে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সেনা মোতায়েন করা হয়েছে দুই হাজার ২১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল জাজিরা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়, শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করে। এই ঘটনার পরপরই কলম্বিয়া সরকার জরুরি বৈঠক ডেকে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সেনা মোতায়েন করা হয়েছে দুই হাজার ২১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর এ হামলা অগ্রহণযোগ্য। সীমান্ত নিরাপত্তায় সব রাষ্ট্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কলম্বিয়া আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)। সংগঠনটি কলম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান থেকে ইএলএন কলম্বিয়ার ভেতরে বা পশ্চিমা স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা করতে পারে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে সব ধরনের সামরিক ও পুলিশি সক্ষমতা সক্রিয় করা হয়েছে। জনগণ, কূটনৈতিক মিশন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ভেনেজুয়েলায় অস্থিরতা বাড়লে নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ভেনেজুয়েলীয় শরণার্থী কলম্বিয়ায় বসবাস করছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।
প্রেসিডেন্ট পেত্রো জানান, সীমান্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় এবার পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
এই সংকট যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও পেত্রো অতীতে মাদুরোর শাসনের সমালোচনা করেছেন, তবে তিনি এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের কথাও জানিয়েছেন।


