
নিরাপত্তা শঙ্কায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপি প্রার্থীর
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সিআইপি মর্যাদা পেলেন ৮৬ প্রবাসী
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে পরাজিত করে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয় বিজয় দিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে ভোরে রাজধানীতে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে পরাজিত করে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয় বিজয় দিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে ভোরে রাজধানীতে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষও স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশের মাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোয়ও উড়েছে জাতীয় পতাকা। একদিন আগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোয় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও বর্ণিল ফেস্টুনে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারিভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা, রেকর্ডসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং, ব্যান্ড শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য কবিতা আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি একটি উদ্বোধনী খাম (ওপেনিং ডে কভার) ও বিশেষ সিলমোহর (ক্যানসেলার) উন্মোচন করেন।
গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেন। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মিলনায়তন ও উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।
গতকাল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব জাদুঘর দর্শনার্থীর জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সঙ্গে দেশের সব বিনোদন কেন্দ্র শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
মহান বিজয় দিবসের জাতীয় পর্যায়ের বর্ণাঢ্য উদযাপনের অংশ হিসেবে সর্বাধিক সংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুট অবতরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে গতকাল বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শোও অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার গতকাল বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে জাতীয় পতাকা বহন করে স্কাইডাইভ প্রদর্শনী হয়। এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নতুন সংযোজন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। একই ধরনের ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শোর আয়োজন করে। সব অনুষ্ঠান সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
গতকাল বেলা ৩টা থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হয়। একই সঙ্গে দেশের ৬৪টি জেলায় নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন। দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু খেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো গতকাল সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দরসহ ঢাকা সদরঘাট, পাগলা ও বরিশালের বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নোঙর করে।
দিনটি উপলক্ষে আজ মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত, আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, শিশু পরিবার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।


