
ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হলেও ফিরেছে কিডনির কার্যক্ষমতা
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
নির্মাণের এক বছরেও চালু হয়নি মেহেরপুর পৌরসভার পানি শোধনাগার
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৫০টি উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ নামে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৫০টি উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ নামে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্প মেয়াদকালে নির্বাচিত ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ স্কুলদিবসে ফর্টিফায়েড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ তথা পুষ্টিকর খাবার দেয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত তালিকা অনুপাতে খাদ্য পাচ্ছে না গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া উপজেলার ৩৫৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর ১৯ স্কুল কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র দুদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু তরল দুধ দেয়া হযেছে। ডিম, বনরুটি, বিস্কুট ও মৌসুমি ফল একদিনও দেয়া হয়নি।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ নভেম্বর থেকে কাশিয়ানী উপজেলার ১৭১টি ও কোটালীপাড়ায় ১৮৭টি বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে কাশিয়ানী উপজেলার ১৮ হাজার ১৬ ও কোটালীপাড়ার ২০ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন—রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম; সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ; বুধবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল সরবরাহ করার কথা। প্রতিটি বনরুটির ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ গ্রাম, প্রতিটি ডিম ৬০ গ্রাম, দুধ ২০০ গ্রাম, বিস্কুট ৭৫ গ্রাম ও ফল ১০০ গ্রাম।
তবে কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে দুদিন এক প্যাকেট করে দুধ দেয়ার কথা। সে হিসাবে ১৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর বিতরণের জন্য ৪৫৯ প্যাকেট প্রাণ কোম্পানির দুধ সরবরাহ পেয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। তালিকায় থাকা বাকি খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক অধিকারী বলেন, ‘১৭ নভেম্বর হঠাৎ করে প্রাণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০০ গ্রামের এক প্যাকেট করে দুধ দিয়ে যান। দুদিনে বিতরণের জন্য ৪৫৯ প্যাকেট তরল দুধ দিয়েছেন তারা। এছাড়া অন্য কোনো খাবার দেয়া হয়নি।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক নুসরাত জাহান বলেন, ‘পত্রিকার মাধ্যমে প্রাথমিকে মিড ডে মিল সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। রোববার ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি এবং সেদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি এবং ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবার ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফায়েড বিস্কুট এবং কলা বা মৌসুমি ফল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেয়ার কথা। তবে আমার মেয়ে গত ১৯ দিন স্কুলে এসে দুদিন এক প্যাকেট করে দুধ পেয়েছে।’
উপজেলার ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নমিতা মণ্ডল জানান, ১৭ নভেম্বর থেকে মিড ডে মিল কর্মসূচি শুরু হলেও তারা শুধু তরল দুধ পেয়েছেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দুদিন দুধ বিতরণ করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এসব দুধ সরবরাহ করছে সেটা তারা জানেন না।
উপজেলার ঘাঘরকান্দা, কয়খা, বাগান উত্তরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন বলেন, ‘ঢাকায় মিড ডে মিলের বিষয়ে আমাদের একদিন ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হয়েছে। তখন বলা হয়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচদিন দুধ, ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা ও মৌসুমি ফল পাবে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন তারা শুধু নভেম্বরে দুদিন তরল দুধ পেয়েছেন। ঠিকাদারের লোকজন আমাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেনি।’
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজলা মিড ডে মিল কর্মসূচি কমিটির সভাপতি সাগুফতা হক বলেন, ‘এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। এ ব্যাপারে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু জানানো হয়নি।’
একই অবস্থা দেখা গেছে কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চাপ্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুসুমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওরাভাদুলিয়া, সাজাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দুধ ছাড়া কোনো খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মিড ডে মিল কর্মসূচি কমিটির সভাপতি মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘আমি ২ ডিসেম্বর এখানে যোগদান করেছি। এ কারণে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. জ্যোৎস্না খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নভেম্বরে দেশের ১৫৫টি উপজেলায় মিড ডে মিল চালু করেছে সরকার। কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলাও এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী কেন সরবরাহ করা হয়নি সে ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হবে।’


