নির্ধারিত খাদ্য পাচ্ছে না সরকারি প্রাথমিকের ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
নির্ধারিত খাদ্য পাচ্ছে না সরকারি প্রাথমিকের ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫

নির্মাণের এক বছরেও চালু হয়নি মেহেরপুর পৌরসভার পানি শোধনাগার

দেশের পশ্চিমাংশের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুর। ১৮৬৯ সালে জনপদটি মিউনিসিপ্যালিটির মর্যাদা লাভ করে। ১৯৯১ সালে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয় এবং ২০০১ সালে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে।

দেশের পশ্চিমাংশের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুর। ১৮৬৯ সালে জনপদটি মিউনিসিপ্যালিটির মর্যাদা লাভ করে। ১৯৯১ সালে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয় এবং ২০০১ সালে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে। ১৭ দশমিক ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা ৪৭ হাজার (২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী)। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২০২৪ সালে ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে গত এক বছরেও প্রকল্পটি চালু করতে পারেনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় পৌরসভার নাগরিকরা সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারটি অকার্যকর অবস্থায় থেকে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা গঠনের শর্তানুযায়ী, পৌর এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শিল্প এলাকা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এছাড়া সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি নির্দিষ্ট জনসংখ্যা ও উন্নত অবকাঠামো থাকতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানি শোধনাগারটি হস্তান্তরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে এখনো চালু করতে পারেনি পৌরসভা। ফলে রিজার্ভ ট্যাংক, পাইপলাইন, জেনারেটরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পৌরসভায় বিদ্যমান পানির সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে নাগরিকদের। পৌরসভার পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় এবং অনেক সময় লাইনে ময়লা ও কেঁচো পাওয়া যাওয়ায় তা খাওয়ার অনুপযোগী বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে পৌরবাসী। অনেকেই বাধ্য হয়ে পৌরসভার পানি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে ফিল্টার করা পানি সংগ্রহ করছে।

চাকরির সুবাদে পরিবারসহ মেহেরপুরে বসবাস করেন রুবেল হোসেন। তিনি জানান, পৌরসভার পানিতে ময়লার সঙ্গে কেঁচোও পাওয়া যায়। ফলে পৌরসভার পানি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি। সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে আমরা এখন শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে ফিল্টার করা পানি সংগ্রহ করছি। শুধু আমার পরিবার নয়, হাজারো পরিবার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে লাইন ধরে ফিল্টার করা পানি সংগ্রহ করছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পান করা যায় না। দুর্গন্ধ থাকে, কখনো কখনো ময়লাও আসে। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করছি।’

পৌরসভার আরেক বাসিন্দা জামিরুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ আমরা এখনো নিরাপদ পানি পাচ্ছি না, এটা খুবই দুঃখজনক।’

ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে এ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর একেবারই নিচে নেমে যায়। অন্যান্য বছর শুষ্ক মৌসুমে পানির তেমন সংকট না থাকলেও গত বছর তা প্রকট আকার ধারণ করে। সাধারণত ৭৫-১০০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপন করলে নলকূপে পানি ওঠে। তবে এবার জেলার বেশির ভাগ অঞ্চলের নলকূপে এ সময় পানি পাওয়া যায় না। অনাবৃষ্টি ও নদী শুকিয়ে যাওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ কারণে সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামিল আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে পৌরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়বে। তাই অবিলম্বে শোধনাগারটি চালু করে পৌরবাসীকে সুপেয় পানির নিশ্চয়তা দেয়া প্রয়োজন।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সুপেয় পানির সংকট নিরসনে শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশুরহাটসংলগ্ন এলাকায় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে ২০২২ সালের এপ্রিলে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর প্রায় দুই বছরের ট্রায়াল পিরিয়ড শেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে শোধনাগারটি মেহেরপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মেহেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারের কাজ সম্পন্ন করে সেটি চালু অবস্থায় পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চাইলে পৌরসভা যেকোনো সময় এটি চালু করতে পারে।’

তবে পৌরসভার প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘পানি শোধনাগার পরিচালনার জন্য স্টাফদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা এবং কিছু যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এখনো চালু করা যায়নি। তবে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করে শোধনাগারটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *