১২৫ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা নাহিদ, জারা ও আদীব ঢাকায় আখতার রংপুর, হাসনাত কুমিল্লা সারজিস লড়বেন পঞ্চগড়ে
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
বাংলাদেশী ৩২ জেলেকে ফেরত দিয়েছে ভারত
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
১২৫ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা নাহিদ, জারা ও আদীব ঢাকায় আখতার রংপুর, হাসনাত কুমিল্লা সারজিস লড়বেন পঞ্চগড়ে
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
বাংলাদেশী ৩২ জেলেকে ফেরত দিয়েছে ভারত
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫

পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও মুন্সিগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না আলুচাষীরা

কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সার একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, পরিবেশ দূষণ ঘটায় ও খরচ বাড়ায়। কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের সারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। অবশ্য মুন্সিগঞ্জে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও নির্ধারিত দামে রাসায়নিক পণ্যটি পাচ্ছেন না আলুচাষীরা। তারা বলছেন, সব ধরনের সার প্রতি কেজিতে ২-১১ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। নির্ধারিত দামের কথা বললেই সার না থাকার অজুহাতে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় আলু আবাদ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন তারা।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ১৯, টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ২৫, এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া ২৭ টাকা, ডিএপি ২১, টিএসপি ২৭ ও এমওপি ২০ টাকা বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।

তবে মুন্সিগঞ্জের মুন্সিরহাট বাজারে ব্যবসায়ীরা সরু ইউরিয়ার সংকট দেখিয়ে মোটা ইউরিয়া ২৯-৩০ টাকা, টিএসপি ৩৭-৩৮, ডিএপি ২২-২৩ ও এমওপি ২১-২২ টাকা বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন আলুচাষীরা।

কৃষকরা জানান, ২৭ টাকার সার ৩৮ টাকা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫৫০ টাকা বেশি দাম চাচ্ছেন। বিক্রির রসিদ চাইলে সেটিও দিতে চান না ব্যবসায়ীরা। দরদাম বেশি করলে দোকানে সার নেই, মান ভালো হবে না বলে তাড়িয়ে দিচ্ছেন। মুন্সিরহাটসহ মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সব সার ব্যবসায়ী ও ডিলাররা সিন্ডিকেট করে বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

যোগনীঘাট এলাকার কৃষক মিয়া চান মাদবর জানান, তিনি এবার ছয় একর জমিতে আলু আবাদ করবেন। গত সোম ও মঙ্গলবার সকালে মুন্সিগঞ্জ সদরের মুক্তারপুর, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ ও মুন্সিরহাট বাজারে সার কিনতে গিয়েছিলেন। তবে দাম বেশি হওয়ায় ও দোকানে সার না থাকায় বাড়ি ফিরে যান।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ডিলার রয়েছেন ৭৭ জন। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তালিকাভুক্ত ডিলার রয়েছেন ১৪৪ জন। সব মিলিয়ে ২২১ জন ডিলারের জন্য চলতি রবি মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৩৪ টন ইউরিয়া, ১০ হাজার ৩৯১ টন টিএসপি, ৩৩ হাজার ৮১৬ টন ডিএপি ও ১৩ হাজার ৩০০ টন এমওপি সারের বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সদর উপজেলার ডিলারদের জন্য ৫ হাজার ৬৮০ টন ইউরিয়া, ২ হাজার ১৬৫ টন টিএসপি, ৬ হাজার ৭৫০ টন ডিএপি ও ২ হাজার ৬৮০ টন এমওপি সার বরাদ্দ রয়েছে দেয়া হয়েছে, যা জেলার কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মুন্সিরহাট বাজারের মেসার্স রিমা ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আনিস সরকার কয়েকজন কৃষকের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন সব ধরনের সার। রিমা ট্রেডার্স নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে, কয়েকজন কৃষক সারের দরদাম করছেন। এ সময় দোকান মালিক মো. রাশেদ টিএসপি ৩৭ টাকা এবং ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার কেজিতে ২-৪ টাকা বেশি চাচ্ছেন।

জানতে চাইলে মো. রাশেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টিএসপি সার নেই। অন্য সারেরও সংকট রয়েছে। ডিলাররা আমাদের সার দিচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়তি দামে কিনে এনে বিক্রি করছি। এজন্য আমাদেরও বেশি দামে সার বিক্রি করতে হচ্ছে।’

বাজারে পর্যাপ্ত সার নেই, ডিলাররাও চাহিদামতো সার দিচ্ছেন না বলে একই অভিযোগ করেন মেসার্স মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক শরীফ হোসেন ও মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের মালিক মো. ছালাউদ্দীনসহ বেশ কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা। তবে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বিসিআইসির সার ডিলার মো. জসিম গাজী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে সার আছে। আরো সার কারখানায় ঢুকছে। যারা বলছেন আমরা সার দেই না তারা মিথ্যা বলছেন।’

সার বিক্রিতে অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রশাসন প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি বাজারে তদারকি করছে। জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুদ রয়েছে। যেসব ব্যবসায়ী সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি তদারকির জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *