
ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আগামী ১৫ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, বিকেল ৫টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ
নভেম্বর ২২, ২০২৫
চট্টগ্রামে বন্দর ‘ইজারা বন্ধের দাবিতে’ আন্দোলনে স্কপ
নভেম্বর ২২, ২০২৫মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে নেয়া, কখনোই ইসলাম এ কথা বলে না। এ কথাগুলো আমি এজন্যই বলছি যে, এগুলো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কথাগুলো বলছে সবাই। এ কথাগুলো আজ জনগণের সামনে আসা উচিত, বেশি করে আসা উচিত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষকে বোকা বানানো ইসলামের শিক্ষা নয়। জান্নাতের টিকেট বিক্রির কথা বলে, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষায় কেয়ারটেকারগণের দেশ ও জাতি গঠনের অগ্রণী ভূমিকা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে নেয়া, কখনোই ইসলাম এ কথা বলে না। এ কথাগুলো আমি এজন্যই বলছি যে, এগুলো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কথাগুলো বলছে সবাই। এ কথাগুলো আজ জনগণের সামনে আসা উচিত, বেশি করে আসা উচিত।
পিআর প্রশ্নে একটি রাজনৈতিক দল এতদিন জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল সমানে চিৎকার করেছে, পিআর দিতে হবে, পিআর না হলে নির্বাচন হবে না। অনেক হুঙ্কার-টুংকার হয়েছে, তাই না? এখন আবার সুর নরম হয়ে গেছে।
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের জন্য চতুর্দিকে দৌড়, ঢাক-ঢোল চলছে। এ জিনিসগুলো ঠিক না। মানুষকে যেটা বলবেন, সেটা সঠিকভাবে বলা উচিত এবং সেই পথে যাওয়া উচিত। কিন্তু মানুষকে বোকা বানিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করা ইসলামের কোথাও বলা আছে, এটা আমার জানা নাই।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, এ মহল কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে দাঁড়াতে পারছিল না। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার সুযোগ করে দেন। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ-আইডিএল নামে প্রথম তারা এসেছিল। তারপর যারা কাজ করেছেন, তারা আমাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন, আমরাও তাদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে গত ১০ বছর আমরা তাদের ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পরাজিত করার জন্য দৃশ্যমান কোনো কাজ করতে দেখিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে শুনতে পাই, ছাত্রলীগের মধ্যে তারা ঢুকেছিল, ছাত্রলীগ সেজে তারা সেখানে ছিল। এ ধরনের কাজ তো আমরা করতে পারি না। আমরা সরাসরি লড়াই করেছি।
তিনি আরো বলেন, দেশের সংকট এখনো কাটেনি, গণতন্ত্র এখনো ফেরেনি, মানুষ এখনো মুক্তি ফিরে পায়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত না তারেক রহমানকে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিজয় হবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে পিআর, এটা কয়জন মানুষ বুঝে? আপনারা তো সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করেন। এটার সঙ্গে দেশের মানুষ পরিচিত না। তারা বুঝে, ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট। একজন ব্যক্তি দাঁড়াবে, তার মার্কা থাকবে, আমি ভোট দেব, এটাই আমরা সব সময় সেই আদিকাল থেকে দেখে আসছি। এখন এটাকে পরিবর্তন করবেন। তার জন্য গণভোট করবেন। গণভোটে থাকবে আবার ‘হ্যাঁ’, ‘না’। এখন গণভোটের নাকি চারটা প্রশ্ন থাকবে। চারটা প্রশ্ন একটা গণভোটের ব্যালটে থাকবে। এটা এখন পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারছে না, শেষ দিন পর্যন্ত বুঝতেও পারবে না।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমি তাদের সঙ্গে যখন আলাপ করছিলাম, তখন আমি বলেছিলাম, আপনারা এইভাবে জিনিসগুলোকে আনেন, যেন মানুষ আস্তে আস্তে ধাতস্থ হতে পারে।
নির্বাচন প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। আসুন আমরা সবাই মিলে অন্তত এই জায়গাতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই যে, একটা সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন, সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন করে আমরা একটা গণতান্ত্রিক সরকার ও গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন করি। যার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের সমস্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারব। পার্লামেন্টে আলাপ হবে। সেই পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই হবে জনগণের সিদ্ধান্ত।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ থেকে ১৬ বছর একটা ভয়াবহ দানবীয় সরকার ছিল। নিজের লোক, দলের লোক বসাতে গিয়ে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গণতন্ত্র দেশে থাকলে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা থাকে। কিন্তু সেটা না থাকায় শেখ হাসিনার সরকার সব মানুষের অধিকারের পাশাপাশি ধর্ম পালনের অধিকারও কেড়ে নিয়েছিল। অথচ সে সময়ে কিছু আলেম হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিল। বিগত সরকার সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল শাহ মো. নেছারুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, মাওলানা মো. জুবাইদুর রহমান, মাওলানা মাহফুজুর রহমান প্রমূখ বক্তব্য দেন।


