চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কার ছিটকে পড়ে প্রাণহানি
নভেম্বর ২১, ২০২৫
নারী কাবাডি বিশ্বকাপ ভারত ও চাইনিজ তাইপের টানা তিন জয়
নভেম্বর ২১, ২০২৫
চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাইভেট কার ছিটকে পড়ে প্রাণহানি
নভেম্বর ২১, ২০২৫
নারী কাবাডি বিশ্বকাপ ভারত ও চাইনিজ তাইপের টানা তিন জয়
নভেম্বর ২১, ২০২৫

মিরপুর টেস্ট মুশফিকের কীর্তির দিনে লিটনেরও সেঞ্চুরি

ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন মুশফিকুর রহিম। ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এ ডানহাতি ব্যাটার গতকাল দ্বিতীয় দিন সকালে ১০৬ রান করে আউট হয়েছেন। এটা তার ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি। ১২৮ রানের রাজসিক ইনিংস খেলেন লিটন দাস। এটা তার পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। এ দুই সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪৭৬ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে ৫ উইকেটে ৯৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে আয়ারল্যান্ড। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে তারা এখনো ৩৭৮ রানে পিছিয়ে।

দিনের শুরু আর সমাপ্তি নিয়ে খুশি হতে পারে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন মুশফিক। এর আগে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি আছে কলিন কাউড্রে, জাভেদ মিয়াদাঁদ, গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, ইনজামাম-উল-হক, রিকি পন্টিং (শততম টেস্টের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি), গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নারের।

দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলা মুশফিক সাদা পোশাকে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। এবার তিনি সেঞ্চুরিতেও চূড়ায় উঠলেন। মুমিনুল হক সৌরভের সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ ১৩টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। অর্থাৎ টেস্ট ম্যাচে, রানে ও সেঞ্চুরিতে শীর্ষে তিনি। এখানে শুরু সেঞ্চুরির রেকর্ডটা ভাগাভাগি করছেন মুমিনুলের সঙ্গে।

২১৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ১০৬ রান করেন মুশফিক। আর লিটন ১৯২ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় করেন ১২৮ রান। ১০৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন, যা তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার।

এরপর আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে আইরিশরা, বিশেষ করে পল স্টার্লিং মারমুখী সূচনা করেন। স্টার্লিং ২৬ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ২৭ রান করে খালেদ আহমেদের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। হাসান মুরাদ আক্রমণে এসেই দ্রুত বিদায় করেন অ্যান্ডি বালবির্নিকে। এরপর মিডল অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়ে। কেড কারমাইকেলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ, আর কার্টিস ক্যামফারকে বোল্ড করেন মুরাদ। হ্যারি টেক্টর ৩৪ বলে ১৪ রান করে অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলামের শিকার হন।

দিনের খেলা শেষে মুশফিক বললেন, তিনি দলের প্রয়োজনকেই বড় করে দেখেন এবং এ ম্যাচে জয়ই হবে তার শততম টেস্টের বড় উপহার। তার কথায়, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমার চেষ্টা থাকে নিজের সেরাটা দেয়ার, দলের জয়ে যতটা সম্ভব বড় ভূমিকা রাখার। গতকালও (বুধবার) বলেছি ক্যারিয়ার ১০০ ম্যাচ হোক বা যে কারো যে কোনো মাইলফলক, সবকিছুর আগে থাকে দলের প্রয়োজন। আমি শুধু সেটাই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি। বাংলাদেশের জন্য আমি মুশফিকুর রহিম, সমুদ্রের দুই-একটা ফোঁটার মতোই। নাম বড় কিনা, সেটা আসলে আলাদা বিষয়। দেশের কথাটাই আগে, দলের কথাটাই আগে। আমরা দেশের জন্য খেলি—এ বার্তাটাই দিতে চেয়েছি। এই ম্যাচে জয়ই হবে আমার সবচেয়ে বড় উপহার।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৭৬ (লিটন ১২৮, মুশফিক ১০৬, মুমিনুল ৬৩; ম্যাকব্রাইন ৬/১০৯)। আয়ারল্যান্ড: ৯৮/৫ (স্টার্লিং ২৭, টাকার ১১*, স্টিফেন ডোহেনি ২*; মুরাদ ২/১০, মিরাজ ১/১১, খালেদ ১/৩০, তাইজুল ১/৩২)।—দ্বিতীয় দিন শেষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *