
যমুনায় আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
নভেম্বর ৩, ২০২৫
আরো তিন বছরের জন্য জামায়াতের আমির হলেন শফিকুর রহমান
নভেম্বর ৩, ২০২৫বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোনো কোনো সময় জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে—যথাসময়ে কি নির্বাচন হবে? কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোনো কোনো সময় জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে—যথাসময়ে কি নির্বাচন হবে? কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনমনে সৃষ্ট এ সংশয়-সন্দেহ গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে হয়তো বা সংকটপূর্ণ করে তুলতে পারে।’
প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে গতকাল সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
বর্তমানে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও অপকৌশল দৃশ্যমান রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জাতীয়তাবাদীতে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপিকে কোনোভাবেই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। তবে জনগণের সমর্থনের কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা অধিকাংশ সময় প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কেননা গণতান্ত্রিক জনগণের কাছে বিএনপি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল।’
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারকেও যথাসাধ্য সম্ভব আমাদের অবস্থান থেকে আমরা সহযোগিতা করে আসছি। অথচ আমরা দেখছি, একের পর এক নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটাপন্ন করে তোলা হচ্ছে। এর পরিণতি সম্পর্কেও আমাদের সতর্ক থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।’
শেষ পর্যন্ত কোনো অগণতান্ত্রিক কিংবা অপশক্তির কাছে বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের পথে হাঁটতে হয় কিনা এমন শঙ্কাও জানিয়েছেন তারেক রহমান। দেশে এ মুহূর্তে মাঠে থাকা সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে এমন বিপদের কথাও স্মরণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কিংবা বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। তবে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি মানুষকে নিশ্চয়ই মনোনয়ন দেয়া সম্ভব নয়। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে রাজপথের সঙ্গী ছিলেন, এমন প্রার্থীকেও বিএনপি সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বাস্তবতার কারণে হয়তো কিছু সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নবঞ্চিত হবেন। তাই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এ বাস্তবতাকে মেনে নেবেন।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হাসান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর হোসেন প্রমুখ।


