নভেম্বর থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে: খাদ্য উপদেষ্টা
অক্টোবর ২৭, ২০২৫
রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি হামিদুল হক
অক্টোবর ২৮, ২০২৫
নভেম্বর থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে: খাদ্য উপদেষ্টা
অক্টোবর ২৭, ২০২৫
রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি হামিদুল হক
অক্টোবর ২৮, ২০২৫

‘ঢাকা–১৮ আসনে পরিবর্তনের প্রতীক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বর্তমানে দলের তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে সাধারণ জনগণ—সবাই তাকে একজন সৎ, দূরদর্শী ও কর্মঠ রাজনীতিক হিসেবে জানেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজে যেমন সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকেছেন, তেমনি তার অনুসারীদেরও এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। ফলে তিনি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে একজন “ক্লিন ইমেজ” প্রার্থী হিসেবে সুপরিচিত।
দলের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। নগর উত্তর বিএনপির গত তিনটি কমিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। সভাবসূলভ আচরণ, কঠোর সংগঠনিক অবস্থান, জনপ্রিয়তা এবং জনদরদী বক্তব্যের জন্য তিনি ইতোমধ্যেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রিয় মুখে পরিণত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্যে থাকে দৃঢ়তা, যুক্তি ও বাস্তবতার ছোঁয়া—যা সাধারণ জনগণের হৃদয়ে আস্থা সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে তিনি ভিন্নধারার রাজনৈতিক বক্তব্য কৌশল গ্রহণ করে তরুণ প্রজন্মের মন জয় করেছেন। তার প্রচারে উঠে এসেছে উন্নত উত্তরার স্বপ্ন, যুবকদের কর্মসংস্থান, এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি। স্থানীয়দের মতে, ধানের শীষ প্রতীকে তার প্রার্থীতা নিশ্চিত হলে ঢাকা–১৮ আসনের রাজনীতিতে নতুন গতি ও প্রাণ আসবে।
দক্ষিণখানের মোল্লা বাড়ীর এই কৃতি সন্তান ছাত্রদলের রাজনীতির গোড়াপত্তন করেন এ অঞ্চলে। বৃহত্তর উত্তরার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতির সূচনা হয় তার হাত ধরে। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা ও দলীয় আদর্শের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তাকে দ্রুত তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতায় পরিণত করে। পরবর্তীতে তিনি বিমানবন্দর থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছেন—কাইয়ুম-হাসান কমিটিতে সহ-সভাপতি, আমান-আমিনুল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ আমিনুল-মোস্তফা কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক
মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন কেবল রাজনীতিক নন, তিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার এবং সফল ব্যবসায়ীও। ব্যবসায়িক সততা, কর্মদক্ষতা ও মানসম্মত কাজের জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত। পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা ও জনকল্যাণমূলক কাজে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুদান ও সহায়তা প্রদান তাকে মানবিক রাজনীতিক হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
নির্বাচনী রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ঘটে উত্তরার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে। তখনকার সরকারবিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও তিনি ভোটারদের বিপুল সমর্থন লাভ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেই নির্বাচনে তিনি সর্বাধিক ভোট পেলেও নির্বাচন কমিশন ও সরকারি দলের নেতাদের কারসাজিতে তার বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় তিনি দমে যাননি, বরং আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
জনমতের প্রতিধ্বনি
দক্ষিণখান, উত্তরখান ও মডেল টাউনের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—সবাই একবাক্যে বলছেন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনই ঢাকা–১৮ আসনের সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী।
উত্তরা মডেল টাউনের বাসিন্দা করিম উদ্দিন বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেগুন ভাইকে চিনি। তিনি শুধু নেতা নন, একজন ভালো মানুষ। এলাকার সব সমস্যা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করেন। এমন মানুষই আমাদের প্রয়োজন।”
দক্ষিণখানের ব্যবসায়ী রহিম মোল্লা বলেন,
“সেগুন ভাইয়ের মতো ক্লিন ইমেজের নেতা খুব কম আছে। তিনি কখনো দলীয় স্বার্থে জনগণের ক্ষতি হতে দেন না। যদি বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়, আমরা নিশ্চিত—ধানের শীষ বিজয়ী হবে।”
উত্তরখানের শিক্ষক মোছা. সালমা বেগম বলেন,
“তরুণদের কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সেগুন সাহেব যেভাবে কথা বলেন, তাতে বোঝা যায় তিনি সমাজ পরিবর্তনে সত্যিই আগ্রহী। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন হবে।”
বিমানবন্দর এলাকার যুবক তানভীর ইসলাম বলেন,
“রাজনীতিতে এমন মানুষ পাওয়া বিরল, যিনি একদিকে দলের নিবেদিত কর্মী, আবার অন্যদিকে মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। সেগুন ভাই তেমনই একজন।”
আরেক তরুণ উদ্যোক্তা মাহবুব হোসেন বলেন,
“সেগুন ভাই রাজপথে আন্দোলন করেছেন, দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেছেন, আবার ব্যবসায়িক সাফল্যেও দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তিনি মনোনয়ন পেলে ঢাকা–১৮ বিএনপির আন্দোলন আরও শক্ত হবে।”
ভবিষ্যতের ভিশন
মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়—জনসেবার দায়িত্ব। তিনি ঢাকা–১৮ আসনের মানুষের জন্য যে ভিশন উপস্থাপন করেছেন, তার মধ্যে আছে—
তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি
রাস্তা, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন
নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা
তিনি বলেন,
“আমি পলিটিক্যাল ক্যানভাসারের মতো স্লোগান বা ব্যক্তিস্তুতির মানুষ নই। আমি শুধু বলতে চাই—ঢাকা–১৮ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। যদি আমার দল ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন, তাহলে এই আসনটি বিএনপির সবচেয়ে বড় জয়ী আসন হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শক্ত জনভিত্তি তাকে একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলেছে। ক্লিন ইমেজ, জনসেবা মনোভাব ও দলের প্রতি নিষ্ঠা—এই তিনটি গুণই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শেষ কথা
ঢাকা–১৮ আসনের রাজনীতি এখন পরিবর্তনের মোড় ঘোরাতে যাচ্ছে। তৃণমূল বিএনপির প্রত্যাশা—যে নেতা দলের ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা ও উন্নয়ন দর্শনকে একসাথে বহন করতে পারবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক। আর সেই প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ইতিমধ্যেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন
জাকির হোসেন, সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *