বরিশালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে নৌ-র‍্যালি
অক্টোবর ৪, ২০২৫
আর্কটিকে গলছে বরফ, চীনের জন্য খুলছে নতুন বাণিজ্য রুট
অক্টোবর ৪, ২০২৫
বরিশালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে নৌ-র‍্যালি
অক্টোবর ৪, ২০২৫
আর্কটিকে গলছে বরফ, চীনের জন্য খুলছে নতুন বাণিজ্য রুট
অক্টোবর ৪, ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার স্কুলভবন ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঘটে যাওয়া এ স্কুলভবন ধসের ঘটনায় এখনো বহু শিক্ষার্থীর হদিস মেলেনি। ভারী এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে কংক্রিটের স্তুপ সরিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এখনো প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

ইন্দোনেশিয়ার সিদোয়ারজোর একটি আবাসিক স্কুলে ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪-তে পৌঁছেছে। গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঘটে যাওয়া এ স্কুলভবন ধসের ঘটনায় এখনো বহু শিক্ষার্থীর হদিস মেলেনি। ভারী এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে কংক্রিটের স্তুপ সরিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এখনো প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রথমদিকে উদ্ধারকারীরা হাতেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে জীবিতদের খুঁজতে থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো জীবনের চিহ্ন না পাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য ভারী এক্সকাভেটর ও জ্যাকহ্যামার ব্যবহার শুরু করেন তারা।

সোমবার শতবর্ষী আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে নামাজ চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভবনটি ধসে পড়ে। ধসে পড়া স্কুলটি রাজধানী জাকার্তার প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোয় অবস্থিত।

আজ শনিবারের (৪ অক্টোবর) মধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ডিজ্যাস্টার মিটিগেশন অ্যাজেন্সির প্রধান সুহারিয়ান্তো।

শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ছিল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের সবার বয়স ১২ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। নিখোঁজ ও হতাহত শিক্ষার্থীদের সবাই ছেলে। ঘটনার সময় মেয়ে শিক্ষার্থীরা ভবনের অন্য একটি অংশে নামাজ পড়ছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তারা দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হয় বলে বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ১০৪ শিক্ষার্থীর অন্যতম রিজালুল কোইব (১৩)। মাথায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। রিজালুল কোইব শুক্রবার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, নামাজ পড়ার সময় হঠাৎ ভারী পাথর পড়ার মতো শব্দ শুনতে পান তিনি, যা ক্রমেই জোরালো হতে থাকে।

তিনি বলেন, ‘যখন মেঝে কাঁপতে শুরু করে আমি নামাজ থামিয়ে দৌড় দেই। হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। ছাদের ধ্বংসাবশেষ আমার মাথা ও মুখে পড়ে। এরপর চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। তখন আমি শুনতে পাই কেউ চিৎকার করছে—এইদিকে, এইদিকে। সে শব্দ অনুসরণ করতে করতে শেষে ধ্বংসস্তূপের একটি সরু ফাঁক খুঁজে পাই। আমি শুধু আলো অনুসরণ করেছিলাম।’

এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন বা উদ্ধার হয়েছেন, তাদের অনেকের মাথায় গুরুতর আঘাত ও হাড় ভাঙা রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে তারা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুইতলা স্কুল ভবনটিতে অনুমোদন ছাড়াই আরো দুই তলা যোগ করা হচ্ছিল।

আর পুলিশের ভাষ্যমতে, পুরনো ভবনের ভিত্তি অতিরিক্ত ফ্লোরের চাপ বহন করার মতো শক্ত ছিল না। ফলে কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় তা ধসে পড়ে।

এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *