
ইন্দোনেশিয়ার স্কুলভবন ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
অক্টোবর ৪, ২০২৫
ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা করে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত অন্তত ৫৫
অক্টোবর ৫, ২০২৫পরম্পরাগতভাবে চীনের জাহাজগুলি সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ইউরোপ যাতায়াত করত, কিন্তু এবার তারা উত্তরমুখী আর্কটিক পথ বেছে নিয়েছে। চীন এই পদক্ষেপকে তাদের ‘পোলার সিল্ক রোড’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আর্কটিক অঞ্চলের মাধ্যমে নতুন বাণিজ্যিক করিডোর তৈরি করবে।
অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় চার গুণ দ্রত গতিতে গলছে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ। তবে পরিবেশের এ বিপর্যয় চীনের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ খুলে দিচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আর্কটিকের বরফ গলছে, খুলছে নতুন সমুদ্রপথ আর এ পথ ব্যবহার করে ইউরোপের দিকে দ্রুত মালামাল পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীন উত্তরাঞ্চলের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে তার বাণিজ্য সম্প্রসারণের কৌশল এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পরম্পরাগতভাবে চীনের জাহাজগুলো সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ইউরোপ যাতায়াত করত, কিন্তু এবার তারা উত্তরমুখী আর্কটিক পথ বেছে নিয়েছে। চীন এই পদক্ষেপকে তাদের ‘পোলার সিল্ক রোড’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আর্কটিক অঞ্চলের মাধ্যমে নতুন বাণিজ্যিক করিডোর তৈরি করবে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, চীনা কনটেইনার জাহাজ ‘ইস্তানবুল ব্রিজ’ নিংবো-ঝৌশান বন্দরে থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজে আছে বৈদ্যুতিক ব্যাটারি, কাপড় ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বরফমুক্ত রুট ব্যবহার করে চীন ইউরোপে পণ্য দ্রুত পৌঁছাতে পারবে, যা শিপিং খরচ কমানো ও সরবরাহ চেইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সুযোগ দেবে। নিংবো কাস্টমস জানিয়েছে, নতুন রুট ব্যবহার করলে দূরত্ব কমার কারণে কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৫০ শতাংশ কমবে। এতে পরিবেশগত ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় করবে।
এ নতুন পথের আরেকটি সুবিধা হলো পরম্পরাগত বাণিজ্য রুটের সম্ভাব্য জ্যাম এড়ানো। ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সুয়েজ খালের সংকট ও পানামা খালের নাব্যতা সংকট—সবই চীনের ট্রেড রুটে ঝুঁকি তৈরি করেছে। আর্কটিক পথ এই ঝুঁকি কমাতে পারে।
তবে আর্কটিক রুট ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ। বরফের হঠাৎ ভাঙন, নতুন আস্তরণ, বরফ ঝড়, কুয়াশা ও আলো স্বল্পতা জাহাজ পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো দুর্ঘটনা মানবজীবন ও পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। এ রুটে বরফভাঙা জাহাজ চলাচল করায় প্রতিটি জাহাজের সম্ভাব্য তেল ঝড়, শব্দ দূষণ ও সমুদ্রে থাকা প্রাণীর জীবনের ওপর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। যত বেশি জাহাজ পাঠানো হবে, বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তত বেশি। নব্বই দশকের প্রযুক্তি ও জাহাজের সীমাবদ্ধতা থাকলেও চীন এই ঝুঁকি গ্রহণ করছে।
চীনের জন্য আর্কটিক রুট একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। পশ্চিমা শিপিং কোম্পানিরা পরিবেশগত ঝুঁকি ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের কারণে এই পথে যাচ্ছে না। এ অবস্থায় চীন আর্কটিক অঞ্চলে একচেটিয়া প্রভাব তৈরি করতে পারছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকার দেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রুটে সফল হলে চীন বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন দক্ষতা ও প্রভাবশালী অংশীদারের মর্যাদা অর্জন করবে। এটি তাদের ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কৌশলগত সুবিধা দেবে। সেইসঙ্গে পোলার অঞ্চলে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কৌশলকে শক্তিশালী করবে।


