বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সর্বোচ্চ রেকর্ডে নয়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা তুলে ধরবেন বিশ্বমঞ্চে
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সর্বোচ্চ রেকর্ডে নয়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা তুলে ধরবেন বিশ্বমঞ্চে
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বিএনপির যৌথ সভা শেষে রুহুল কবির রিজভী মূল্য সমন্বয়ের পরও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে, আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ যতই এগোচ্ছে, পরিস্থিতি ততই অবনতির দিকে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির পথ দিয়ে আসে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মূল্য সমন্বয়ের পরও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম। জাপানে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ১ দশমিক শূন্য ৭ ডলার, আর বাংলাদেশে আগে ছিল দশমিক ৩০০ ডলার। তাই কম দামে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প কী হতে পারে, তা সংশ্লিষ্টদের বলতে হবে।’
গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন রিজভী।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে, আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ যতই এগোচ্ছে, পরিস্থিতি ততই অবনতির দিকে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির পথ দিয়ে আসে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। অথচ জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছিল। দেশে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৭০ লাখ টন, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, আর ভারতে তা ১৩৪ টাকার কিছু বেশি। ফলে ডিজেল পাচার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে ডিজেল কিনতে হয় প্রতি লিটার ২৫০ টাকা দরে। আগে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করায় প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান দিতে হতো। এখন ২০ টাকা মূল্য সমন্বয় করার পরও প্রতি লিটারে ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে। পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নিরন্তর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি এনে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও জনগণের স্বার্থে নেয়া পদক্ষেপকে ব্যঙ্গ করে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়।’
গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে সারা দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই রাজনীতি করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে বিএনপি দেশের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু আমাদের দল ক্ষমতার জোর দেখিয়ে কখনই রাজনীতি করেনি। বিএনপি জোর দেখায় একটাই, সেটা হচ্ছে জনগণের শক্তির জোর।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক পরিবেশে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তাদের সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে এখন কোনো বাধা নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে গাজীপুর, কালিয়াকৈর, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়ত। পক্ষান্তরে তারেক রহমানের সরকারের সময় বিরোধী দলের ঢাকা থেকে রংপুরগামী লংমার্চ নির্বিঘ্নে টাঙ্গাইল ও বগুড়া হয়ে রংপুরে পৌঁছেছে এবং পথে অনেক সভা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *