
সপ্তাহের ব্যবধানে হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬শেয়ারবাজারের শক্তিশালী অবস্থান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ট্রেজারি বন্ডের ভালো মুনাফার কারণে স্বর্ণের মতো সুদহীন সম্পদের আকর্ষণ কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। এর পরও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে স্বল্পমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বাজার বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিগগিরই ধাতুটির দামে বড় ধরনের সংশোধন বা পতন দেখা যেতে পারে। শেয়ারবাজারের শক্তিশালী অবস্থান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ট্রেজারি বন্ডের ভালো মুনাফার কারণে স্বর্ণের মতো সুদহীন সম্পদের আকর্ষণ কমতে পারে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।
সম্প্রতি ফেড সুদহার বাড়ানোর ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৪০ ডলার অতিক্রম করে। সাধারণত সুদহার বাড়লে স্বর্ণের দাম কমে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। কিন্তু এবার বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ৫ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে ডলারের বিনিময় হারও কিছুটা কমে যায়। এতে স্বর্ণের দামে ইতিবাচক সমর্থন পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির ফলে স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। তবে জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। বর্তমান দাম সে রেকর্ডের তুলনায় অনেকটা কম।
ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের জ্যেষ্ঠ পণ্য কৌশলবিদ মাইক ম্যাকগ্লোন সতর্ক করে বলেন, ‘শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং মার্কিন সরকারি বন্ডে প্রায় ৫ শতাংশ মুনাফার সুযোগ আছে। ফলে সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে। তার মতে, শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশের মতো সংশোধন হলে তামার দাম ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দামও আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারের দিকে নেমে যেতে পারে।’
এদিকে ফেডের সিদ্ধান্তের পর রুপার দাম প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৬৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। তবে রুপার বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও দস্তার মতো শিল্প ধাতুর দিকেও। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি), ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তামার চাহিদা বাড়ছে। তবে নতুন খনিতে বিনিয়োগ কম থাকায় এবং মানসম্মত আকরিকের ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে ধাতুটির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির সময় স্বর্ণ ও রুপা বিনিয়োগকারীদের জন্য আপৎকালীন সম্পদ। তবে ডলারের শক্ত অবস্থান ও উচ্চ সুদহার স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি থাকলেও স্বর্ণের দামে সংশোধনের বা দরপতনের ঝুঁকি এখনো রয়েই যাচ্ছে।


