ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী অভিযান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২০২৫-২৬ অর্থবছর কৃষিপণ্যের রফতানি আয় কমলেও ফুল-ফলে প্রায় দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী অভিযান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২০২৫-২৬ অর্থবছর কৃষিপণ্যের রফতানি আয় কমলেও ফুল-ফলে প্রায় দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে পাঠানো শত শত আশ্রয়প্রার্থী নিখোঁজ, শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ

২০২৫ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ চুক্তিটি ঘোষণা করেন। সে সময় স্টারমার এটিকে ‘যুগান্তকারী’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে জোর করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে অন্য কিছু মানুষকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়
যুক্তরাজ্য থেকে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তির আওতায় ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো শত শত আশ্রয়প্রার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ধারণা করছে, নিখোঁজদের মধ্যে থাকতে পারে অন্তত ৪১ শিশু। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ চুক্তিটি ঘোষণা করেন। সে সময় স্টারমার এটিকে ‘যুগান্তকারী’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে জোর করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে অন্য কিছু মানুষকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়।
চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ১ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কী হবে বা এর পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা আসবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ চুক্তিটির মেয়াদ এবং এর পরিসর বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স সরকার জানিয়েছে, শুধু ফ্রান্সকে ছোট নৌকায় আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত নেয়ার দায়িত্ব না দিয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে এ ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে চায় তারা।
ফ্রান্সের এক রাজনীতিক জানিয়েছেন, ছোট নৌকায় আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশ ফেরত নেয়ার জন্য অন্যান্য দেশের প্রতি ফ্রান্সের আহ্বানে এখন পর্যন্ত নেতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছোট নৌকায় আসা আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা ৩২ হাজার মানুষের মাত্র ৪ শতাংশকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এসব হিসাবের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নেই, যারা দ্বিতীয়বার যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছেন। তাদের কেউ কেউ এখন যুক্তরাজ্যে কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে বসবাস করছেন।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স পরে চুক্তিটি সংশোধন করে। এর ফলে ট্রাকে করে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসা ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বারও ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত চুক্তি নিয়ে এক বৈঠকে নিখোঁজের ঘটনা ও অন্যান্য উদ্বেগের কথা জানানো হয়। ইউরোপের কাউন্সিলের পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির আশ্রয় ও অভিবাসন নীতিবিষয়ক সাধারণ প্রতিবেদক মাইক জার্মান এবং পার্লামেন্টের যৌথ মানবাধিকার কমিটির নতুন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স সোবর বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা সেখানে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
হিউম্যানস ফর রাইটস নেটওয়ার্কের পরিচালক ম্যাডি হ্যারিস বলেন, কয়েকটি এনজিও মিলে বয়স নিয়ে বিতর্ক থাকা অন্তত ৪১ শিশু ও কিশোরের একটি তালিকা তৈরি করেছে। তাদের দাবি, এসব শিশুকে বেআইনিভাবে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একা থাকা শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটকে রাখা বেআইনি। এছাড়া ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তির আওতায়ও একা থাকা শিশুরা বাদ রয়েছে।
তবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, ‘এটি সম্পূর্ণ অসত্য দাবি। বয়স নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, এমন কাউকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়নি।’
তবে প্রিজনস অ্যান্ড ডিটেনশন ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডস (আইএমবি) জানিয়েছে, এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০০ শিশু শনাক্ত হয়েছে যাদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজনীতিকরা জানিয়েছেন, জোর করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ২০০ জন এখনো দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে শত শত মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
দ্য গার্ডিয়ান এমন কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা ফ্রান্সে ফেরত যাওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখছেন না এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ফরাসি কর্তৃপক্ষের বৈরি আচরণ, অনিরাপদ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চাপ এবং যাত্রাপথে পাড়ি দেয়া বুলগেরিয়ার মতো অন্য ইউরোপীয় দেশে জোর করে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর পর এসব মানুষের কী হয়েছে, তা ফরাসি কর্তৃপক্ষের বিষয়। নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হিউম্যানস ফর রাইটস নেটওয়ার্কের পরিচালক হ্যারিস একা থাকা শিশুদের জোর করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় আটক অনেক শিশুকে আমরা সহায়তা করি এবং তাদের মুক্ত করার চেষ্টা করি। তবে অন্তত ৪১ শিশুকে যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থান জানা যাচ্ছে না। এসব শিশুর বিপুলসংখ্যকই ভয়াবহ সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখন তারা ইউরোপের কোথাও সুরক্ষাহীন অবস্থায় রয়েছে।’
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স কর্মসূচি সমন্বয়কারী নিহাল ওসমান পার্লামেন্টের ওই বৈঠকে বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’। তাদের অনেকের মধ্যে ফ্ল্যাশব্যাক, তীব্র উদ্বেগ, আত্মক্ষতি, আত্মহত্যার চিন্তা এবং মানসিক বিপর্যয়ের মতো গুরুতর মানসিক উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
অ্যালেক্স সোবর বলেন, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে ফ্রান্সের সীমান্তে চলমান কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তিনি বলেন, ‘ফরাসি পুলিশ এমন কিছু করছে, যা ব্রিটিশ পুলিশ করলে গ্রহণযোগ্য হতো না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *