
জেলি পুশ করা চিংড়ি ধ্বংস
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ইলিশ রফতানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আবেদন ভারতীয় আমদানিকারকদের
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের তো স্কোপ নেই প্রতিনিধি দেয়ার। বিমসটেকের চেয়ারকে দিয়েছে।’
ভারতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিংবা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়।
সাংবাদিকরা ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে যাবে? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?’ বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিমসটেকের চেয়ারকে দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে তো দাওয়াত দেয়নি।’
বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের তো স্কোপ নেই প্রতিনিধি দেয়ার। বিমসটেকের চেয়ারকে দিয়েছে।’
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। আর প্রথম সফর তো বহুপক্ষীয় হতে পারে না।
এর আগে ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে ‘দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট: একটি সমন্বিত পদ্ধতির সন্ধান’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি আরো শক্তিশালী আঞ্চলিক কূটনীতির প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।’ মাঠ পর্যায়ের জটিল পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা বর্তমানে মিয়ানমার রাষ্ট্রের প্রশাসনের বাইরে এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের সমাধান খুঁজতে প্রয়োজনীয় ধৈর্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে।’
জিয়াউর রহমানের অধীনে ১৯৭৮ সালে এবং আবার বেগম খালেদা জিয়ার অধীনে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে যে প্রত্যাবাসন সম্ভব। এটি ‘যদি’র প্রশ্ন নয়। এটি ‘কীভাবে’ এবং ‘কত দ্রুত’—সেটির প্রশ্ন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে দেশের কূটনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা যায়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের উপস্থিতির ফলে মানবিক উদ্বেগের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। কক্সবাজারের জনগণের নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নেব না। সরকারের নীতি হলো উন্মুক্ত-সময়ের মানবিক ব্যবস্থাপনা থেকে প্রত্যাবাসন-সম্পর্কিত কর্মসূচির দিকে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা, যাতে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি স্থায়ী না হয়ে যায়।’


