
ক্রয় কমিটির সভায় অনুমোদন ১০৩৮ কোটি টাকার সার, ছোলা ও রাইস ব্র্যান তেল কিনবে সরকার
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছার পর কমল তামার দাম
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬গমের দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন করে তীব্রতা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন করে হামলা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের বাজারে। গত মঙ্গলবার শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) গমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে একই দিনে ভুট্টার দাম কমেছে। পাশাপাশি সয়াবিনের দামও বেড়েছে। খবর দ্য রিও টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে শিকাগো সফট রেড উইন্টার গমের দাম ১৩ সেন্ট বেড়ে বুশেলপ্রতি ৭ ডলার ৪৭ সেন্টে উঠেছে। কানসাস সিটির হার্ড রেড উইন্টার গমের দাম বেড়েছে ১৬ ডলার ৭৫ সেন্ট। এ জাতের গমের দাম দাঁড়িয়েছে ৮ ডলার ১৯ সেন্ট প্রতি বুশেল।
গমের দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন করে তীব্রতা। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য পরিবহন ও রফতানি অবকাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ। এ অঞ্চলের যেকোনো ধরনের সরবরাহ বিঘ্ন আন্তর্জাতিক গমবাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি বাজারের ঊর্ধ্বগতি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গম রফতানির চিত্রও খুব শক্তিশালী ছিল না। ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির গম রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৬ লাখ বুশেল। আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ২১ শতাংশ কম। এ সময় মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান ও কলম্বিয়া ছিল সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
অন্যদিকে বৈশ্বিক ভুট্টার বাজারে ছিল ভিন্ন চিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ভুট্টা রফতানি ৬ কোটি ৫৫ লাখ বুশেলে পৌঁছেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। বাজারের পূর্বাভাসও ছাড়িয়ে গেছে এ পরিমাণ। মোট রফতানির প্রায় ৮২ শতাংশই নিয়েছে কলম্বিয়া, মেক্সিকো, জাপান, স্পেন ও দক্ষিণ কোরিয়া মিলে।
তার পরও ভুট্টার দাম কমেছে। সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে ভুট্টার দাম ১ সেন্ট কমে ৫ ডলার ১১ সেন্ট ও ডিসেম্বরে ৩ ডলার ২৫ সেন্ট কমে ৫ ডলার ৩৩৫ সেন্টে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডে ছুটির পর বাজারে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা ও কারিগরি বিক্রির চাপ এতে ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ভুট্টা রফতানিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল।
সয়াবিনের বাজার অবশ্য উল্টো পথে গেছে। নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে সয়াবিনের দাম ৬ ডলার ৫ সেন্ট বেড়ে বুশেলপ্রতি ১৩ ডলার ১৬ সেন্টে উঠেছে। জানুয়ারির চুক্তির দাম বেড়েছে ৭ সেন্ট। তবে সয়াবিনজাত পণ্যে ছিল মিশ্র প্রবণতা। সয়াবিনের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমলেও তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার বাজারেও সয়াবিনের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগস্টে ব্রাজিল ৩৬ কোটি ৪ লাখ বুশেল সয়াবিন রফতানি করেছে। এক বছরের আগের তুলনায় তা ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। তবে জুলাইয়ের তুলনায় রফতানি কমেছে। একই সময় ব্রাজিলের ভুট্টা রফতানি ছিল ১৭ কোটি ১১ লাখ বুশেল।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে শস্যবাজারে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি চাহিদা ও বিশ্ব সয়াবিন বাণিজ্যে ব্রাজিলের বাড়তে থাকা ভূমিকা। যুদ্ধের কারণে গমের দাম বাড়লে আর্জেন্টিনার মতো প্রধান রফতানিকারকরা লাভবান হতে পারে। তবে এ ধরনের যুদ্ধকালীন মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত উল্টেও যেতে পারে।


