আসিফ মাহমুদ দুদক না, শুধু আমাকে সামনাসামনি ফেস করুক: রাশেদ খাঁন
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
আসিফ মাহমুদ দুদক না, শুধু আমাকে সামনাসামনি ফেস করুক: রাশেদ খাঁন
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয়

এতে আরো বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। গতকাল থেকেই এ আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের পদবির সঙ্গে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের রীতি স্বাধীন বাংলাদেশেরও আগের। ব্রিটিশ আমলের বেঙ্গল সরকারের নথি ও আইনসভার কার্যবিবরণীতে গভর্নরের ক্ষেত্রে ‘হিজ এক্সিলেন্সি’ এবং মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ‘অনারেবল’ ব্যবহারের নজির রয়েছে। পাকিস্তান আমলেও একই প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। স্বাধীনতার পরও সেই দাপ্তরিক রীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ১৯৭১ সালের কূটনৈতিক যোগাযোগে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ‘হিজ এক্সিলেন্সি’ সম্বোধনের নজির রয়েছে। পরে সরকারি নথিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ‘মাননীয়’ নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
নতুন পরিপত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচলিত এ রীতির পরিবর্তন এল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *