যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজ চলাচলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলা
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ক্রয় কমিটির সভায় অনুমোদন ১০৩৮ কোটি টাকার সার, ছোলা ও রাইস ব্র্যান তেল কিনবে সরকার
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজ চলাচলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলা
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ক্রয় কমিটির সভায় অনুমোদন ১০৩৮ কোটি টাকার সার, ছোলা ও রাইস ব্র্যান তেল কিনবে সরকার
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের তীব্রতাকে। ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ফের চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ায় গতকাল বিশ্বের বেশির ভাগ শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে। একই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। খবর এপি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের তীব্রতাকে। ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ফের চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়াতে পারে বা সুদ কমানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে পারে। এতে ঋণের খরচ বাড়ে ও ব্যবসায় বিনিয়োগ কমার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গতকাল ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ৩৯ সেন্টে ওঠে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলার ৮৫ সেন্টে দাঁড়ায়।
তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, উৎপাদন ও বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে প্রায় সব খাতের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপণ্যের দামেও পড়ে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোয়ও এর প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে। গতকাল দিনের শুরুতে ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৮ হাজার ২২৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। জার্মানির ড্যাক্স সূচক কমেছে দশমিক ৯ শতাংশ। সূচকটি নেমে আসে ২৫ হাজার ৭৭৮ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচকও দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৭৬১ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর আগে বড় কোনো ইতিবাচক গতি দেখা যায়নি। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ফিউচারস প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের ফিউচারস দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
এশিয়ার বাজারে অবশ্য মিশ্র প্রবণতা ছিল। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৬৫ হাজার ১৪২ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৫১ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে উঠেছে।
হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। সূচকটি নেমে এসেছে ২৫ হাজার ২৭৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে সাংহাই কম্পোজিট সূচক দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯৫১ দশমিক ৫১ পয়েন্টে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক সামান্য বেড়েছে। এছাড়া ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সেনসেক্স সূচক কমেছে দশমিক ৯ শতাংশ।
বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের দিকে। শুক্রবার দেশটির আগস্টের ভোক্তা মূল্যসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার কথা। ওই প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাবে, এক বছর আগের তুলনায় আগস্টে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক ও জীবনযাপনের অন্যান্য খাতে মানুষের ব্যয় কতটা বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই বৈঠকে সুদহার কমানো হবে, বাড়ানো হবে, নাকি বর্তমান হার অপরিবর্তিত রাখা হবে—সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে চাহিদা কমানোর চেষ্টা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার নিয়ে রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ফেডের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও নজর রয়েছে বাজারসংশ্লিষ্টদের।
এদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আগামী সপ্তাহে নীতিসুদ নিয়ে বৈঠক করবে। বাজার পর্যবেক্ষকরা সেখানে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন।
গতকাল দিনের শুরুতে মুদ্রাবাজারেও ছিল কিছুটা ওঠানামা। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য কমে ১৫৩ দশমিক ৪৮ ইয়েনে নেমেছে। আগের অবস্থানে তা ছিল ১৫৩ দশমিক ৯৯ ইয়েন।
বিশ্ববাজারে এখন একাধিক ঝুঁকি একই সময় কাজ করছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ ফের বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে কঠোর নীতি ধরে রাখতে হতে পারে। কিন্তু উচ্চ সুদহার দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চাপ পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ, তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও সুদহার—চারটি বিষয় এখন বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের জন্য পরস্পর সম্পর্কিত ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় সে ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে। আগামী দিনগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথ, তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যই শেয়ার ও মুদ্রাবাজারের দিকনির্দেশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কেন্দ্রের থাকা হরমুজের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রয়টার্স বলছে, প্রণালিটির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন বা পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী এ দাবি করে।
বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন কীভাবে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার একটি বিরল উদাহরণ সামনে এনেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, জব্দ ড্রোনটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান (অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল) ‘ডাইভ-এলডি’। ১৯ ফুট বা ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ ডুবোযানটি সমুদ্রতলে মাইন শনাক্ত ও অপসারণ, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তার ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনে ব্যবহার করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *