কানাডার বোম্বারডিয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের চাপ ট্রাম্পের
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
জানুয়ারি-আগস্ট চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ১৭.৬ শতাংশ
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
কানাডার বোম্বারডিয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের চাপ ট্রাম্পের
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
জানুয়ারি-আগস্ট চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ১৭.৬ শতাংশ
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

ডিএসই ও ডিবিএর বৈঠক পুঁজিবাজারে নতুন আইপিওর সরবরাহ বাড়াতে অগ্রাধিকার প্রদানের সিদ্ধান্ত

বৈঠকে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও অস্থিরতা নিরসনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নতুন আইপিও আনয়ন ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএসই। গতকাল বেলা ১১টায় ভার্চুয়ালি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিএসই ও সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তাই বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাজারকে দমন নয়; বরং একটি কমপ্লায়েন্ট, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোকে ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি পুঁজিবাজারের অন্যতম দুর্বলতা। এ পরিস্থিতিতে নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফির ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘পরিচালনা পর্ষদ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না; বরং নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয়। নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।’
সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিসি অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়; পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স (পরিপালন) ও সার্ভেইল্যান্স (নজরদারি) সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। এসব কার্যক্রম বিএসইসিতে রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেয়া বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা জানান, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই তা অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং লেনদেনের ধরন, দামের ওপর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা, নির্দেশনাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইএক্স সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৫৬৭ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১১৪ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১১৫ পয়েন্ট।
গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে পূবালী ব্যাংক, মালেক স্পিনিং মিলস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, লাফার্জ হোলসিম ও এশিয়াটিক ল্যাবের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৫৯০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ৫৭১ কোটি টাকা। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৩টির, কমেছে ২৫২টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৬১টির।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৭ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল ব্যাংক খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
গতকাল বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে বস্ত্র খাতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ, সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৪, সাধারণ বীমা, সিমেন্ট ও পাট খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *