
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী সাইফুর রহমান শুধু বিএনপির গৌরব নন, জাতির সম্পদ
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
সেমিনারে রুহুল কবির রিজভী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রবণতা ইঙ্গিত করে যে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশীদের অনিয়মিত অভিবাসন এখন আর শুধু পশ্চিমা দেশগুলোকে ঘিরে নেই।
ইউরোপের দেশগুলোয় বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদনের চিত্র দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও অনিয়মিত অভিবাসনের এ প্রবণতা এখন আর শুধু ইউরোপকেন্দ্রিক নয়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে (২০২১-২৫) আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদা চেয়ে আবেদন করেছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী নাগরিক। তাদের সিংহভাগই আবেদন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে সোমালিয়া, মালি, মরক্কো, মিসর, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, নামিবিয়া ও ক্যামেরুনের মতো দেশেও তুলনামূলক কম সংখ্যায় বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রবণতা ইঙ্গিত করে যে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশীদের অনিয়মিত অভিবাসন এখন আর শুধু পশ্চিমা দেশগুলোকে ঘিরে নেই। সামাজিক পরিসরে আফ্রিকার দেশগুলো নিয়ে নানা নেতিবাচক ধারণা থাকলেও বাস্তবে এসব দেশেই আশ্রয়ের খোঁজ করছেন অনেক বাংলাদেশী। তাদের কাছে আফ্রিকা কেবল কর্মসংস্থানের গন্তব্য নয়; ইউরোপে যাওয়ার ট্রানজিট রুট কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সির মাধ্যমে ভবিষ্যতে উন্নত দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরির পথ হিসেবেও কিছু দেশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদার জন্য আবেদন করেছেন ৬০ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশী। এর মধ্যে ৮৫০ জন শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন। বাকি প্রায় ৫৯ হাজার ৭০০ জন আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, যাদের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন বা নিষ্পত্তি হয়নি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আফ্রিকার তিনটি প্রধান উপ-অঞ্চল—পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। তবে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় পুরো অংশই কেন্দ্রীভূত পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায়, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
inside
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৫৬১। পরের বছর তা কমে ৯ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে ৯ হাজার ৩৯৬ ও ২০২৫ সালে আরো কমে ৬ হাজার ৫৪০ জনে নেমে আসে। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশী রিফিউজির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩।
এ অঞ্চলের আরেক দেশ সোমালিয়ায় ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই ছয়জন বাংলাদেশী শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে নামিবিয়ায় শুধু ২০২৩ সালে পাঁচজন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।
পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। মালিতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ৩২ জন করে মোট ৬৪ বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যামেরুনে ২০২৪ সালে আবেদন করেছেন মাত্র পাঁচজন। এ অঞ্চলের কোনো দেশেই আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।
জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় চেয়েছেন। সংখ্যাটি আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। তবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে অনেক দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। এ কারণে কেউ কেউ আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সবাই সরাসরি ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান না। তাই তুলনামূলক কম খরচে বা বিকল্প পথে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে।’
উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে মরক্কোয়। ২০২১ সালে দেশটিতে ৭২ জন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা কমে ১৬ জনে, ২০২৩ সালে ১৪ ও ২০২৪ সালে ১০ জনে নেমে আসে। তবে ২০২৫ সালে তা কিছুটা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়ায়। পাঁচ বছরে মরক্কোয় মোট ১৩১ বাংলাদেশীর রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মিসরে ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর পাঁচজন করে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য রয়েছে। তিউনিসিয়ায় ২০২১ সালে ছয়জন ও ২০২২ সালে পাঁচজনসহ মোট ১১ জন এবং আলজেরিয়ায় শুধু ২০২৫ সালে পাঁচজন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। উত্তর আফ্রিকার কোনো দেশেই বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।
অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশীদের একটি অংশ আশ্রয়ের জন্য তুলনামূলকভাবে অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। এসব দেশে বৈধ অভিবাসীর মর্যাদা বা রেসিডেন্সি কার্ড পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে উন্নত বিশ্বে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার পথও সহজ করতে পারে।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্টের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে এসব দেশে দীর্ঘমেয়াদে থেকে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়ার চেষ্টা করেন। এটি পরবর্তী সময়ে ইউরোপ বা অন্য কোনো উন্নত দেশে ভিসা পাওয়া কিংবা পুনরায় অভিবাসনের পথকে সহজ করে তোলে। দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশী প্রবাসীরা সেখানে ছোট-বড় ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রসারে দেশ থেকেই স্বজন বা পরিচিতদের নিয়ে যান। ফলে সেখানে একটি টেকসই চেইন মাইগ্রেশন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর কৌশলগত ব্যবহারের ধরন কিছুটা ভিন্ন। তিউনিসিয়া, মরক্কোর মতো দেশগুলো মূলত ইউরোপে প্রবেশের মূল ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’


