
সাভারে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যায় প্রধান আসামির ৫ দিনের রিমান্ড
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
পরিশোধনাগারে যুদ্ধের ধাক্কা জাহাজের জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার নাগরিককে কী কী সেবা দিচ্ছে, সেই সেবা কার জন্য, কে দিচ্ছে, কত ব্যয়ে দিচ্ছে, সেবার প্রত্যাশিত ফলাফল কী এবং সেবা প্রদানের পথে কোথায় সমস্যা রয়েছে—তা চিহ্নিত করে এবং উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এই লক্ষ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাগুলোকে এসডিজি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চিহ্নিত করতে হবে
আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতার মাধ্যমে সার্ভিস ডেলিভারি, ম্যাট্রিক্স, পলিসি ব্রিফ এবং ট্রাকার তৈরি করে সরকারের পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, সেবা পরিবীক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
রাজধানীর শাহবাগে গতকাল বিসিএস প্রশাসন একাডেমির সম্মেলন কক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি পলিসি ব্রিফস অ্যান্ড ম্যাট্রিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় উপদেষ্টা একথা বলেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার নাগরিককে কী কী সেবা দিচ্ছে, সেই সেবা কার জন্য, কে দিচ্ছে, কত ব্যয়ে দিচ্ছে, সেবার প্রত্যাশিত ফলাফল কী এবং সেবা প্রদানের পথে কোথায় সমস্যা রয়েছে—তা চিহ্নিত করে এবং উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এই লক্ষ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাগুলোকে এসডিজি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চিহ্নিত করতে হবে৷ এরপর প্রতিটি সেবার উপকারভোগী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তর, প্রয়োজনীয় বাজেট এবং সেবা প্রদানের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলোকে একটি সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্সের মধ্যে আনতে হবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, একটি সেবাকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে না দেখে নীতি, উপকারভোগী, দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর, বাজেট, ফলাফল ও নাগরিকের মতামতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সেবার তালিকা তৈরি, একই ধরনের সেবার পুনরাবৃত্তি কমানো এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সেবা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের সঙ্গে বাজেট বরাদ্দের সংযোগ তৈরি হবে। ফলে কর্মকর্তারা তাদের কাজের সঙ্গে পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন এবং সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা ও নাগরিক সেবার মান আরো বাড়বে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, সেবা প্রদানের পথে কোনো সমস্যা থাকলে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে হবে। সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে একটি ট্র্যাকার রাখতে হবে, যেখানে সমস্যা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, করণীয়, সময়সীমা ও অগ্রগতি উল্লেখ থাকবে।
তিনি বলেন, কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো নীতিকে সেবার সঙ্গে, সেবাকে উপকারভোগীর সঙ্গে, উপকারভোগীকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং প্রতিষ্ঠানকে বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করা।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা দেখাশুনা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার যোগসূত্র স্থাপন করে ম্যাট্রিক্স স্থাপন করে সব দপ্তর ও সংস্থার সেবাগুলো একত্রে মনিটরিং করা যাবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ফ্যাকাল্টিরা উপস্থিত ছিলেন।


