বিরামপুর সীমান্তে অন্তত ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ হাসপাতালে বেড সংকট
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
বিরামপুর সীমান্তে অন্তত ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ হাসপাতালে বেড সংকট
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

সংস্কারের অভাবে বেহাল সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়ক

কোথাও কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরো বাড়ছে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরো বাড়ছে।
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে উপজেলা সদর ও উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাতৈর বাজারে যাতায়াত করে হাজার হাজার মানুষ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ রোগী বহনকারী যানবাহনকেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদেরও স্বাভাবিকভাবে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের খানাখন্দ ক্রমেই বাড়ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে কখনো সড়কের এক পাশ, কখনো কিনারা ঘেঁষে চলতে হয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুর বা খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি ও মানুষ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, ‘রাস্তা ভেঙেচুরে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি হেঁটে যেতেও কষ্ট হয়। এর আগে অনেকবার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে।’
স্থানীয় এক ভ্যানচালক জানান, কিছুদিন আগে একটি পিকআপ তার ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও এমন পরিস্থিতিতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় কোনটি কতটা গভীর, তা বোঝা যায় না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক এখন তাদের জন্য স্বস্তির বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, ‘সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে পঁাচ কিলোমিটার দীর্ঘ। রাস্তাটি আইডিভুক্ত রয়েছে। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।’
সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসানও। তিনি বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেয়া আছে। একটি এস্টিমেট করে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের ভয়াবহ খানাখন্দগুলো মেরামত করে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *