মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল পাস
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
দিল্লিতে ছাত্রাবাস ধসে নিহত পাঁচ চাপা পড়েছে আরো অনেকে
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল পাস
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
দিল্লিতে ছাত্রাবাস ধসে নিহত পাঁচ চাপা পড়েছে আরো অনেকে
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’ এলাকা ঘোষণা করবে ইরান

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, নতুন এলাকাটি আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে। তার ভাষায়, এটি ‘মার্কিন নৌ অবরোধের রেখা’ থেকে শুরু হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে বিস্তৃত হবে এবং ওই দিক থেকে পারস্য উপসাগরের ভেতরেও সম্প্রসারিত হবে
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি নতুন ‘বর্জনীয় এলাকা’ (এক্লুশন জোন) ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে তেহরান। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান মোহসেন রেজাই। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এলাকায় ঢুকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে এমন কোনো জাহাজ শনাক্ত হলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।
এপির প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই এ পরিকল্পনার কথা জানান। তবে তিনি নতুন এলাকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এ ঘোষণার একদিন আগে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পর তিনটি ইরানি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনা সংঘাতকে বিপজ্জনকভাবে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। কারণ এর আগে সমুদ্রে ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ।
রেজাই বলেন, নতুন এলাকাটি আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে। তার ভাষায়, এটি ‘মার্কিন নৌ অবরোধের রেখা’ থেকে শুরু হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে বিস্তৃত হবে এবং ওই দিক থেকে পারস্য উপসাগরের ভেতরেও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে এবং সেটি শনাক্ত হলে, তাকে আমাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।’
তবে মার্কেন নৌ অবরোধ এলাকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান তেহরান কীভাবে নির্ধারণ করছে, তা স্পষ্ট নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ওই অবরোধের লক্ষ্য ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে দেশটির জ্বালানি তেল রফতানি বন্ধ রাখা। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এ অবরোধে যুক্ত রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত তারা ৯২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং তিনটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে।
আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা কিছু জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যুদ্ধের মধ্যে এ প্রণালি তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
গতকাল ইরান আরো দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন চালকবিহীন নৌযানে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ দাবি নাকচ করে একে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এক মাসের মতো তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকাও ফের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেঙে পড়া আলোচনা নিয়েও রেজাই শুধু ওয়াশিংটনের ওপর নয়, মধ্যস্থতাকারীদের ওপরও আস্থার ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। জুনের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়তে শুরু করে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
রেজাই বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান, কাতার বা ওমানের মতো আমাদের বন্ধুদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, তারা যেহেতু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছে, তাই কোনো পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করলে সেটি থামানোও একজন মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব। এখন আমরা নিশ্চয়তা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বিশ্বে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর আগে এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
গতকাল মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হচ্ছে। তার মতে, এতে জ্বালানির দামের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।
তবে ট্যাংকার ট্র্যাকার্স ডট কম ও অন্যান্য কয়েকটি সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের গড় পরিমাণের চেয়ে রাইটের দেয়া হিসাব বেশি।
সিএনএন-কে রাইট বলেন, এ অঞ্চলের পাইপলাইন দিয়েও জ্বালানি তেল পরিবহন হচ্ছে। সব মিলিয়ে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি জ্বালানি তেল পরিবহন হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
অবশ্য এ অঞ্চলে জ্বালানি তেল পরিবহন অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির ওপর। মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাংকার পাহারা এবং সম্ভাব্য ইরানি হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত অন্যান্য দেশও মার্কিন নৌবাহিনীর এ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করবে বলে রাইট আশা করছেন।
এদিকে ইরানের রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ‘প্রতিদিন আমরা ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বিক্রি করছি। ইরানের তেল উত্তোলন ও বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবেই চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *