
যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত এক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির কাছে ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’ এলাকা ঘোষণা করবে ইরান
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬প্রস্তাবিত আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী—এমন অভিযোগ এনে বিলটি পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দল। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিল দুটো অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের শতাধিক অধ্যাদেশ পাস করলেও এ অধ্যাদেশ দুটি পাস না করায় তা (ল্যাপস) হয়ে যায়। তখন সরকারের তরফে বলা হয়, এ আইন দুটি অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সংসদের বিবেচনার জন্য আনা হবে।
গতকাল বিল পাসের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিল পাসের মাধ্যমে তার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হয়েছে।’
তবে এ বিল দুটি পাস হওয়ার আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। এর আগে ২৭ আগস্ট বিল উত্থাপনের দিনেও বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগের সুযোগ রেখে বিল পাস: এদিকে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিলটি সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী—এমন অভিযোগ এনে বিলটি পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দল। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ/মাতামহ কর্তৃক তার সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তির ভোগাধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবৎকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবৎকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরেরে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।’
বিল পাসের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এ আইন এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এ আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’


