
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড সাত বাংলাদেশীর মৃত্যু
আগস্ট ২০, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, শপথ আগামীকাল
আগস্ট ২০, ২০২৬দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮ শিশু। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮২৩ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে এ সময়ে মোট ৯২২ শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৮৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৩১। এ সময়ে ৭৮৭ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯২৫ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বির যৌথ গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের জন্য ভাইরাসের নতুন কোনো ধরন দায়ী নয়। বরং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত অত্যন্ত সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের হামের ভাইরাসের বিস্তার, পাশাপাশি টিকাদান ও মাতৃদুগ্ধ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ঘাটতি এর অন্যতম কারণ।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়া এবং এ রোগে মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ৯ মাস বয়সের আগেই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। এর সঙ্গে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি থাকায় এ বয়সী শিশুরা হামের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, ‘আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে নয়, সঠিক সময়ে কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমেই হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিস্তার ও মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের টিকাদান ক্যাম্পেইনে সময়মতো উদ্যোগ না নেয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল আজকের এ মহামারী। হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড বসিয়ে এ মৃত্যুর ঢল থামানো যাবে না। প্রতিরোধ এবং টিকাদানই এর একমাত্র সমাধান।’
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ানো হলেও হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো দুই-তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি জোরদার করে শিশুমৃত্যু কমানোর চেষ্টা চলছে।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে এ গবেষণার মূল ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত যৌথভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।


