
হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু, মোট ৯০৮
আগস্ট ১৭, ২০২৬
ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫
আগস্ট ১৭, ২০২৬রাজনৈতিক গণতন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির সুফলও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়। আমার অর্থনীতিতে গণতন্ত্র যদি আমি করতে না পারি, রাজনৈতিক গণতন্ত্র আমাদের সফল হতে পারে না। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ যেন দেশের অর্থনীতির সর্বক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত মানুষের আত্মত্যাগের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এক সময় জনগণের অধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার ছিল না। সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে চলে গিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘এখন মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে তাহলে আমরা কী পেলাম এ আত্মত্যাগের পরে? আমরা কোথায় আছি এবং কোথায় যাব?’ মানুষের এ প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়েই তাদের নির্বাচনী ইশতাহার প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ তাদের অন্যতম প্রধান স্লোগান। দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখতে হবে।
অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও ‘স্পোর্টস ইকোনমি’র ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি জানান, দেশের গ্রামগঞ্জের কামার, কুমার, তাঁতি, কুটিরশিল্পী, শিল্পী, গায়ক, নাট্যকর্মী ও খেলোয়াড়দের এতদিন অর্থনীতির মূলধারায় আনা সম্ভব হয়নি। এবার তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
স্পোর্টস ইকোনমির প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ছেলে-মেয়েকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাদের অনেকে ভবিষ্যতে খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবে। পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।’
গ্রামীণ শিল্প ও কারুশিল্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শীতলপাটি, মৃৎশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষের ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইনিং ও ব্র্যান্ডিং সহায়তা দেয়া হবে। পাশাপাশি তাদের পণ্য বিক্রির প্লাটফর্ম তৈরি করা হবে। এতে স্থানীয় পণ্য অনলাইন প্লাটফর্মেও বিক্রির সুযোগ পাবে।’
অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দায়িত্ব নেয়ার সময় অর্থনীতি একটি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অবস্থায় ছিল। ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে সংকট ছিল। রাষ্ট্রীয় তহবিলেও চাপ ছিল। এর মধ্যেও সরকার সামাজিক সুরক্ষা ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয়া। বিশেষ করে, যেসব নারীর ঘর পরিচালনা করলেও আনুষ্ঠানিক চাকরি বা আয় নেই, তাদেরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘‘‘স্পিরিট অব জুলাই’’ ধারণ করেই এসব প্রকল্প নেয়া হয়েছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, নারীর ভাগ্য পরিবর্তন, শিশুদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নাগরিক জীবনে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারকে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী ইশতাহার ও ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও আন্দোলনের সাফল্য অর্থবহ হবে।’


