গ্রেফতার
আগস্ট ৮, ২০২৬
তিন বছরে রাশিয়ায় কর্মী গেছে ৮ হাজার, অর্ধেকই পাঠিয়েছে পাঁচ এজেন্সি
আগস্ট ৮, ২০২৬
গ্রেফতার
আগস্ট ৮, ২০২৬
তিন বছরে রাশিয়ায় কর্মী গেছে ৮ হাজার, অর্ধেকই পাঠিয়েছে পাঁচ এজেন্সি
আগস্ট ৮, ২০২৬

স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাস সরবরাহ

টানা ছয়দিন ধরে তীব্র সংকটের পর ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ গ্রাহক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে।

ফেনী অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিক থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ফলে এদিন রাত থেকেই জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস নিতে পারছে যানবাহনগুলো।

​বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গ্যাস সঞ্চালন কেন্দ্রের (জিটিসিএল) কার্যক্রম চালুর পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলার ১৪ স্টেশনের মধ্যে ১০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে একযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

​ফেনী এলাকায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ২৩-২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে সরবরাহ শতভাগে উন্নীত হবে এবং দূরবর্তী উপজেলাগুলোতেও গ্যাস সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে।

গতকাল সরজমিনে ফেনীর মহিপাল এলাকার ব্যস্ততম হাজী নজির আহম্মদ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গাড়িগুলো সহজে গ্যাস নিতে পারছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে অন্যদিনের মতো দীর্ঘ সারি বা উপচে পড়া ভিড় ছিল না।

​ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. মাসুম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর সারারাত গাড়িতে গ্যাস দেয়া হয়েছে। গ্যাসের চাপও বেশ ভালো ছিল।

এ বিষয়ে বিজিডিসিএল ফেনীর ডিজিএম প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দ্রুতই পুরোপুরি সমস্যা সমাধানের আশা করছেন তিনি।

কথা হয় কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে। মহিপাল এলাকার চালক আবদুল করিম বলেন, ‘গত কয়েকদিন পাম্পে পাম্পে ঘুরেও ঠিকমতো গ্যাস পাইনি। লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ট্রিপ ধরতে পারিনি। দিনশেষে জমার টাকাই উঠত না। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাম্পে কোনো ভিড় ছাড়াই সহজে গ্যাস পেয়েছি।’

অটোরিকশাচালক মো. হাছান বলেন, ‘গ্যাসের প্রেশার কম থাকলে পাম্পের লোকেরা গাড়ি ঢুকাইতে দিত না। সিলিন্ডার ফুল হতো না বলে অল্প দূরে গিয়েই গ্যাস শেষ হয়ে যেত। এখন গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় একবার সিলিন্ডার ভরে সারাদিন ভালোভাবেই গাড়ি চালানো যাচ্ছে। খুব স্বস্তি পাইছি।’

​দূরপাল্লার সিএনজিচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘টানা কয়েকদিন খুব কষ্ট হয়েছে। মালিকের জমা আর নিজেদের রুটি-রুজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আশা করি পাম্পগুলোতে গ্যাসের এমন চাপ নিয়মিত বজায় থাকবে, যাতে আর লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে না হয়।’

এর আগে টানা ছয়দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ও তীব্র স্বল্পতার কারণে যানবাহন চলাচল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *