এশিয়ার চালের বাজার সরবরাহ সংকটে ভারতে রফতানি মূল্য বেড়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে
আগস্ট ৪, ২০২৬
জাপানে ১৫০০০ ইয়েনের কেনাকাটায় মিলবে ‘মিনি স্টারবাকস স্টোর’
আগস্ট ৪, ২০২৬ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ ও বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশটির। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়ার প্রধান শস্য রফতানিকারক সংগঠন ‘ইউনিয়ন অব গ্রেইন এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড প্রডিউসার্স (আরইউজিইপি)’। রয়টার্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার কারণে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি কৃষ্ণসাগর এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ রাশিয়া এবং অন্যতম প্রধান কৃষি রফতানিকারক দেশ ইউক্রেন একে অন্যের কৃষি অবকাঠামো ও পণ্যবাহী জাহাজে হামলা জোরদার করেছে। গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া এসব আক্রমণের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
রুশ শস্য ইউনিয়নের মতে, বর্তমানে আমদানিকারক দেশগুলোর কাছে কিছু শস্যের মজুদ থাকলেও শিগগিরই তারা সংকটে পড়বে। চলতি মৌসুমে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার গম সরবরাহ তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টন পর্যন্ত কমতে পারে।
এটি বিশ্ব গম বাণিজ্যের প্রায় ১৫ শতাংশ। কোনো বিকল্প দেশের পক্ষে এত বড় ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটি আরো জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রতি টন গমের দাম বেড়ে ৩৪০-৩৭০ ডলার হতে পারে, এমনকি ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ মূল্যবৃদ্ধি করোনাকালীন মহামারীর চেয়েও বড় ধরনের বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যস্ফীতি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার গরিব দেশগুলো। কারণ তারা কৃষ্ণসাগরের শস্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কেনাকাটা কমানোর কারণে এসব দেশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনের বৃহত্তম কৃষক ইউনিয়ন জানিয়েছে, ওডেসা বন্দরের কাছে রাশিয়ার হামলায় তাদেরও রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টিকে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া শস্য চুক্তিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বর্তমানে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সার্বিক কৃষি বাণিজ্য চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।


