
সংস্কার নেই দীর্ঘদিন, দুর্ভোগে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের যাত্রীরা
আগস্ট ১, ২০২৬
নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানী পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
আগস্ট ১, ২০২৬বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা কমছে না। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম, যা কোনো কোনো বাজারে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে বেগুন, পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। মাছের বাজারেও দেখা গেছে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি। তবে মুরগি, গরুর মাংস, ডিম ও চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, দোকানিরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও সরবরাহ শৃঙ্খলে যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর ফলে পণ্যের দাম বাড়তি।
দেশের বৃহত্তম পাইকারি কাঁচাবাজারগুলোর একটি রাজধানীর কারওয়ান বাজার। গতকাল এ বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৪০-৩৮০ টাকায়। মোহাম্মদপুর, হাতিরপুলসহ রাজধানীর অন্যান্য বাজারে তা ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এক মাস আগেও পণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০-১২০ টাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের খুচরা মূল্য ছিল ৩০০-৪০০ টাকা। এক মাস আগে একই সময়ে এর দাম ছিল ৮০-১২০ টাকা। কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেগুনের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ১০০-১৬০ টাকায়। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর একই দিনে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০-১২০ টাকায়। এমনকি এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটির দাম ছিল ৯০-১২০ টাকা।
এছাড়া আলু, পটোল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। শসা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬০-১২০ টাকায়। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে যে পেঁয়াজ ৪৫-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, গতকাল তার দাম ছিল ৫৫-৬০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মজুদ থাকা অনেক পেঁয়াজ পচে গেছে। এ কারণে সামনে পণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে।
কারওয়ান বাজারে গতকাল বাজার করতে এসেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দামে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তা আর থামছে না। দিন দিন বরং দাম আরো বাড়ছে। সবজিও এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আগে যেখানে এক কেজি করে সবজি কিনতাম, বাধ্য হয়ে এখন তা আধা কেজি কিনছি।’
শাকসবজির পাশাপাশি মাছের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০-২৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল এর দাম ছিল ২৩০-২৮০ টাকা। আকারভেদে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৫০-৫৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি কাতল ৩৫০-৫০০, পাঙাশ ২০০-৩৫০, কৈ ২২০-৩০০, পাবদা ৩৫০-৪৫০, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সবজি ও মাছের দাম বাড়লেও প্রায় অপরিবর্তিত দেখা গেছে মুরগি ও মাংসের দর। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৮৫-২০০ টাকায়, সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছিল ৩৩০-৩৬০ টাকায় এবং দেশী মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ৬০০-৭৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে ৭৮০-৮৫০ টাকায়। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ফার্মের মুরগিরও। গতকাল প্রতি ডজন ডিম ১৩৫-১৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া চালের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত দেখা গেছে। মানভেদে বিভিন্ন চালের দাম ৫০-৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।


