
বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদে ইরান-ইউক্রেন উত্তেজনা, এর তাৎপর্য কী
জুলাই ২৮, ২০২৬
ইএসএসে অংশগ্রহণের সুযোগ পেল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা
জুলাই ২৮, ২০২৬যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর থেকে এ যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনসমর্থন ৪০ শতাংশের নিচেই রয়েছে। সাম্প্রতিক অন্যান্য যুদ্ধের শুরুর সময়কার জনসমর্থনের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতি তিনজনে এক মার্কিন সমর্থন করছেন। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে এটি পাঁচ মাস ধরে চলা এ সংঘাতের শুরুর দিকের পর থেকে সর্বনিম্ন সমর্থন হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সম্পৃক্ততার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
গত শুক্রবার থেকে রবিবার পরিচালিত জরিপে আরো দেখা গেছে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের হার এক মাস আগের তুলনায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে। গত মাসে তার গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল তার বর্তমান প্রেসিডেন্সির সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
ইরান-সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের জনগণকে শাসক উৎখাতে সহায়তা করা, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
তবে জরিপে দেখা গেছে— ৬৯ শতাংশ মার্কিন মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার লক্ষ্য ট্রাম্প ‘স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি।’ উত্তরদাতাদের প্রতি ১০ জনে রিপাবলিকান সমর্থক ছিলেন চারজন।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ট্রাম্প ‘পরিবর্তনশীল জনমত জরিপ’ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর থেকে এ যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনসমর্থন ৪০ শতাংশের নিচেই রয়েছে। সাম্প্রতিক অন্যান্য যুদ্ধের শুরুর সময়কার জনসমর্থনের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ২০০৩-১১ সাল পর্যন্ত চলা ইরাক যুদ্ধে শুরুর মাসগুলোয় প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান সমর্থন দিয়েছিলেন। আর ২০০১-২১ সাল পর্যন্ত চলা আফগানিস্তান যুদ্ধের প্রথম দিকে প্রায় ৯০ শতাংশ আমেরিকান যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন বলে গ্যালাপের জরিপে দেখা যায়।
যুদ্ধের প্রতি জনঅসন্তোষ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই হবে।
জর্জিয়ার স্টকব্রিজের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত টারবাইন মেরামত বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, ‘তাদের সঙ্গে কেন আমরা যুদ্ধ শুরু করলাম, তা পরিষ্কার নয়। আমার কোনো ধারণাই নেই।’
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ওম্যাক। তিনি জানান, ওই যুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্ব পছন্দ হওয়ায় রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন কমে গেছে।
এ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান এবং লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অনেক আমেরিকানের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের কিছু বেশি, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারির ঠিক আগে তা ছিল প্রায় ৩ ডলার।
জরিপে আরো দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেছেন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন ২০ শতাংশ। অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র ভোটাররা রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের বেশি সমর্থন করেছেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলবে না।


