কোরিয়ার শিনগিয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ টিউশন ফির ১৮ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, ভিসা পাননি প্রায় ৩০০ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী
জুলাই ২২, ২০২৬
‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভ জ্বালানি সংকটের সুরাহা না হলে সরকারের অন্য সব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে
জুলাই ২৩, ২০২৬
কোরিয়ার শিনগিয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ টিউশন ফির ১৮ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, ভিসা পাননি প্রায় ৩০০ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী
জুলাই ২২, ২০২৬
‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভ জ্বালানি সংকটের সুরাহা না হলে সরকারের অন্য সব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে
জুলাই ২৩, ২০২৬

আন্দোলনে উত্তাল নয়াদিল্লি যন্তর মন্তরে ককরোচ, মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল-প্রিয়াংকা আটক

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এবং প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে একযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। পরে সেখান থেকে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে নিজেদের দাবিতে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতা, সমর্থক ও শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে দিল্লিমুখী পদযাত্রা করেন পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের কৃষকরা।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে জোর করে সরিয়ে রাহুল গান্ধীকে ছত্রাশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে একটি গাড়িতে করে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে প্রিয়াংকা গান্ধীকে আটকের পর মন্দির মার্গ পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে হাজির হন কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। পরে প্রিয়াংকা গান্ধীকে সেই পুলিশ স্টেশন থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

সেই সঙ্গে আটক সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ ইয়াদবকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া। যেভাবে তাদের মারধর করা হয়েছে, জামাকাপড় ছিঁড়েছে, সেটা গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ নয়। আমরা বিষয়টি হাউজে তুলব।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার সংসদ অভিমুখে নজিরবিহীন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নেন। ব্যারিকেড, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এবং প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেও বিক্ষোভকারীদের সংসদ ভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছানো ঠেকানো যায়নি। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে পুলিশ ও আন্দোলনকারী মিলিয়ে শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

AP26202275570656
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান নেন। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেও সেখানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এ কণ্ঠ থামবে না।’

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় সংসদে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন জিতেন্দ্র সিং। তবে কংগ্রেসের দাবি, শুধু সংসদে আলোচনা নয়; শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও পদত্যাগ করতে হবে।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সন্ধ্যার দিকে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ আন্দোলনে অংশ নেয়া বিরোধী নেতাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাদের বাসযোগ ধরনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির হাজারো শিক্ষার্থী। সরকারের আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করে তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও আন্দোলনে নতুন নতুন শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি সংগঠনটির।

অন্যদিকে কৃষি ইস্যুতেও নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই দিন প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে দিল্লিমুখী পদযাত্রা শুরু করেন পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচলের কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে কম শুল্কে বিদেশী কৃষিপণ্য ভারতে প্রবেশ করবে, যা দেশীয় দুগ্ধ খাত ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তবে পাঞ্জাব থেকে যাত্রা করা শত শত কৃষককে হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তে আটকে দেয় পুলিশ। সীমান্তজুড়ে ব্যারিকেড, সিমেন্টের ব্লক ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাধার মুখে পড়ে শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনরত কৃষকরা।

পরে হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রী শ্যাম সিং রানা বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। তিনি দাবি করেন, কৃষকদের উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে তারা আরো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *