নতুন খাত ও দেশের বাইরের গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে গড়া পুঁজি ও সম্পদ
জুলাই ২১, ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য সেবা সম্প্রসারণে নতুন ৪৫ হাজার পদ চায় সমাজসেবা অধিদপ্তর
জুলাই ২১, ২০২৬
নতুন খাত ও দেশের বাইরের গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে গড়া পুঁজি ও সম্পদ
জুলাই ২১, ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য সেবা সম্প্রসারণে নতুন ৪৫ হাজার পদ চায় সমাজসেবা অধিদপ্তর
জুলাই ২১, ২০২৬

যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবল ট্র্যাকিংয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ পর্যায়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ের যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবল ট্র্যাকিং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে

বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি ও যাত্রী পরিবহনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি দল যশোর রেলওয়ে জংশন, বেনাপোল স্টেশন, রেললাইন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যশোর-বেনাপোল রুটটি একক লাইনে পরিচালিত হওয়ায় ট্রেন চলাচলে ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ডাবল লাইন নির্মিত হলে এ সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং ট্রেন চলাচল আরো দ্রুত ও নিয়মিত হবে।

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে রেলসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, স্টেশন ও বিদ্যমান লাইনের কারিগরি দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ডাবল লাইন চালু হলে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে ট্রেনের যাত্রা সময় ৩০-৪৫ মিনিট পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে শিডিউল বিপর্যয় কমবে এবং এ রুটে আরো বেশি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।

বর্তমানে লাইনের ধারণক্ষমতা পূর্ণ থাকায় অতিরিক্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হয় না। ডাবল ট্র্যাক চালু হলে ঢাকা, খুলনা, উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোলমুখী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ভারতগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের টিকিট সংকট অনেকটাই কমবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ডাবল লাইন হলে এসব ট্রেন দ্রুত বন্দরে প্রবেশ ও ফিরে যেতে পারবে। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও বিলম্ব মাশুল ব্যয় কমবে। পাশাপাশি রেলপথে পণ্য পরিবহন বাড়লে আমদানি-রফতানিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া রুটটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মতো আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান অংশ। ডাবল লাইন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং রেল যোগাযোগ শক্তিশালী হবে

প্রকল্পটি ‘কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি’র আওতায় বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া সম্ভাব্যতা যাচাই আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর নির্মাণ পরিকল্পনা ও অর্থায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু কারিগরি ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিদ্যমান লাইনের পাশেই নতুন ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় রেলওয়ের নিজস্ব জমি সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। তবে স্টেশন এলাকা সম্প্রসারণ ও কিছু বাঁক সোজা করতে সীমিত পরিসরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর বিদ্যমান রেলসেতু। ডাবল লাইন চালুর জন্য বর্তমান সেতুর সমান্তরালে নতুন ব্রড গেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সমীক্ষা দল এ সেতুর নকশা ও নদের নাব্যতা বজায় রেখে কীভাবে পিলার স্থাপন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে কাজের সময় সামাজিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ফিজিবিলিটি স্টাডি দলের সদস্য ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বেনাপোলের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরো শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে বেনাপোল থেকে খুলনা-মোংলা, রাজশাহী ও চিলাহাটি রুটে নতুন ট্রেন চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরো জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে দ্রুত সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এরপর সরকার ডাবল লাইন নির্মাণে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *